রাজধানীর কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে অনুষ্ঠিত টার্কিশ এয়ারলাইন্স ওয়ার্ল্ড গলফ কাপের (টিএডব্লিউজিসি) ঢাকা পর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কর্নেল মো. হুমায়ুন রশিদ। গত ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপা জেতেন তিনি। রানারআপ হয়েছেন এয়ার ভাইস মার্শাল মো. নজরুল ইসলাম এবং তৃতীয় হয়েছেন এস এম আবদুল্লাহ ফারাবি।
প্রতিযোগিতায় পুরুষ বিভাগে ‘ক্লোজেস্ট টু দ্য পিন’ পুরস্কার জিতেছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াসির জাহান। নারী বিভাগে এ পুরস্কার পেয়েছেন নীলা আজিজ। ৭৫ স্কোর নিয়ে গ্রস বিভাগেও পুরস্কার জিতেছেন হুমায়ুন রশিদ।
তুরস্কের জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা টার্কিশ এয়ারলাইন্স আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় রাজধানীর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সদস্যরা অংশ নেন। এবারের আসরে ১৩৯টি টুর্নামেন্টের মধ্যে এটি ছিল ৯২তম। ঢাকা পর্বের বিজয়ী বছরের শেষ দিকে তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য গ্র্যান্ড ফাইনালে অংশ নেবেন। সেখানে প্রতিযোগীরা গ্লোরিয়া গলফ ক্লাবে খেলবেন এবং গ্লোরিয়া সেরেনিটি রিসোর্টে অবস্থান করবেন।
ঢাকায় টার্কিশ এয়ারলাইন্সের জেনারেল ম্যানেজার ইসলাম গুরে প্রতিযোগিতাটি সফল করায় অতিথিদের ধন্যবাদ জানান এবং বিজয়ীকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, টার্কিশ এয়ারলাইন্স ওয়ার্ল্ড গলফ কাপ সিরিজের এবারের প্রতিযোগিতাও ছিল রোমাঞ্চকর।
২০১৩ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে টার্কিশ এয়ারলাইন্স ওয়ার্ল্ড গলফ কাপ বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত হয়েছে। এ পর্যন্ত ৮৪টি দেশে ১৩০টির বেশি টুর্নামেন্টে ১০ হাজারের বেশি খেলোয়াড় এতে অংশ নিয়েছেন। প্রতিযোগিতার সব গ্র্যান্ড ফাইনালিস্ট টার্কিশ এয়ারলাইন্সের বিজনেস ক্লাসে তুরস্কে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।
১৯৩৩ সালে প্রতিষ্ঠিত টার্কিশ এয়ারলাইন্স ইস্তাম্বুলকে কেন্দ্র করে ১৩৩টি দেশের ৩৫৩টি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। সংস্থাটির বহরে রয়েছে ৫৬৭টি উড়োজাহাজ। এর মধ্যে এয়ারবাস এ৩৫০ ও বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের মতো আধুনিক উড়োজাহাজও রয়েছে।
গলফসহ বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যটনেও ভূমিকা রাখছে এয়ারলাইনসটি। গত এক দশকে টার্কিশ এয়ারলাইন্স ওপেন ও ওয়ার্ল্ড গলফ কাপের মতো আয়োজন তুরস্কের আনতালিয়াকে আন্তর্জাতিক গলফ পর্যটনের অন্যতম গন্তব্য হিসেবে পরিচিত করতে সহায়তা করেছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে যাত্রীদের একটি সেট গলফ সরঞ্জাম বিনা মূল্যে পরিবহনের সুবিধা দেয় সংস্থাটি।
বর্তমানে ঢাকা-ইস্তাম্বুল রুটে সপ্তাহে সাতটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে টার্কিশ এয়ারলাইন্স। এ রুটের মাধ্যমে যাত্রীরা ইস্তাম্বুল হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতের সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি সংস্থাটির কার্গো বিভাগ টার্কিশ কার্গো সপ্তাহে দুটি ওয়াইড-বডি কার্গো ফ্লাইট পরিচালনা করছে, যা বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের বাণিজ্যিক সংযোগে ভূমিকা রাখছে।
