শুরু থেকেই ঢাকা করাচি রুট ঘিরে বাংলাদেশ পাকিস্তানের এয়ারলাইন্সগুলোর ছিলো বাড়তি আগ্রহ।এবার এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এয়ার সিয়াল।
এর আগে পিআইএ, বিমান ও ইউএস এয়ারলাইন্সকে টপকে এই রুট দখল করে নেয় পাক এয়ারলাইন্স ফ্লাই জিন্নাহ। অনুমোদন পাবার পর ইতোমধ্যেই ফ্লাইট চালানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে পাকিস্তানের নবীন এই এয়ারলাইন্সটি।
তবে ঢাকা করাচি রুট নিয়ে এবার চাপে পরেছে ফ্লাই জিন্নাহ। ইতোমধ্যে পাকিস্তানেরই আরেক এয়ারলাইন্স এয়ার সিয়ালও এই রুটে ফ্লাইট চালাতে আবেদন করেছে। ইতোমধ্যেই এয়ার সিয়ালের আবেদনটি পর্যালোচনা করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সব ঠিক থাকলে এই এয়ারলাইন্সটিও পেতে পারে ঢাকা করাচি রুটে ফ্লাইট চালানোর অনুমোদন।
পাকিস্তানের ল্যাকসন গ্রুপ ও আরব আমিরাতের এয়ার অ্যারাবিয়ার যৌথ মালিকানার এয়ারলাইন্স ফ্লাই জিন্নাহ। ২০২১ সালে যাত্রা শুরু করলেও মাত্র ৩ বছরেই নিজেদের সক্ষমতার প্রমান দিয়েছে তারা। ৬ টি উড়োজাহাজ নিয়ে এয়ারলাইন্সটি বর্তমানে ১১ টি আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ঢাকা করাচি হবে তাদের ১২ নম্বর রুট।
তবে ৬ টি উড়োজাহাজ নিয়ে দেশে বিদেশে মোট ১২ রুটে ফ্লাইট চালাতে হিমশিম খেতে হতে পারে বলে ফ্লাই জিন্নাহ বহরে নতুন বিমান যোগ করতে চায়। সেটিকেই সুযোগ হিসেবে নিয়েছে এয়ার সিয়াল। অনুমোদন পেলে মাত্র দুমাসেই ঢাকা করাচি রুট শুরু করতে পারবে বলেও সিভিল অ্যাভিয়েশনকে জানিয়েছে তারা।
বয়সের হিসেবে ফ্লাই জিন্নাহর থেকে এক বছরে বড় এয়ার সিয়াল। ২০২০ সালে পাকিস্তানে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চালানোর মধ্য দিয়ে এই এয়ারলাইন্সটি যাত্রা শুরু করে। আর ২০২৩ সালে সৌদি আরবের জেদ্দায় ফ্লাইট চালানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এয়ার সিয়ালের আন্তর্জাতিক যাত্রা।
এছাড়াও ফ্লাই জিন্নাহর থেকে উড়োজাহাজ আর রুটেও এগিয়ে এয়ার সিয়াল। ৭ টি উড়োজাহাজের মালিক এই এয়ারলাইন্সটি ১৪ টি রুটে ফ্লাইট চালায়। ঢাকা করাচি হবে তাদের ১৫ নম্বর রুট। শুধু ঢাকাই নয় কুয়েত, কুয়ালালামপুর, দোহা, কলম্ব, আবুধাবি ও ব্যাংককের মতো রুটগুলোতেও ফ্লাইট চালানোর পরিকল্পনা করছে এয়ার সিয়াল। সেই লক্ষ্যে নতুন ৪ টি এয়ারবাসেরও অর্ডার দিয়েছে তারা।
যদিও ফ্লাইট শুরুর প্রক্রিয়ায় এয়ার সিয়ালের চেয়ে এগিয়ে আছে ফ্লাই জিন্নাহ। ইতোমধ্যেই এয়ারলাইন্সটির জিএসএ নিয়োগ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হলেই সিভিল অ্যাভিয়েশনের কাছে স্লট বরাদ্দ চাইবে তারা।
জানা যায়, শুরুতে সপ্তাহে ৩ টি করে ফ্লাইট চলবে এই রুটে। পরে অবস্থা বুঝে ফ্লাইট বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে ফ্লাই জিন্নাহর।আর এয়ার সিয়াল অনুমোদন পেলে জমজমাট হয়ে উঠবে ঢাকা করাচি রুট। দুই এয়ারলাইন্সের প্রতিযোগিতায় ভাড়াও যেমন কমে আসবে তেমনি বাড়বে সেবার মানও।
