ভারতের ট্রান্সশিপমেন্ট বাতিলে উল্টো চাঙ্গা দেশের আকাশপথ

লেখক: Md Rahad Ali Sarker
প্রকাশ: ১ বছর আগে

ভারতের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করার পর স্বাধীন বিমান পরিবহন কার্যক্রম জোরদার এবং রপ্তানির গতি ধরে রাখার প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

ইতিমধ্যে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নির্ধারিত কার্গো ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নিয়েছে এবং ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জনবল বৃদ্ধিসহ কার্গো সক্ষমতা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা জোরদার করেছে।

গত ৮ এপ্রিল ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অভ ইনডিরেক্ট ট্যাক্সেস অ্যান্ড কাস্টমস বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যকে ভারতীয় স্থলবন্দর ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দরগুলোতে ট্রানজিটের অনুমতি দেওয়ার বিধান প্রত্যাহার করে।

এ বিষয়ে বেবিচক-এর চেয়ারম্যান এয়ার-ভাইস মার্শাল মো. মনজুর কবির ভূঁইয়া বলেন, অক্টোবরে তৃতীয় টার্মিনাল পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত শাহজালাল বিমানবন্দরে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করা হবে।

এছাড়াও শাহজালাল বিমানবন্দরে কার্গো ক্লিয়ারেন্স ত্বরান্বিত করা,সিলেট বিমানবন্দর ২৭ এপ্রিল থেকে কার্গো কার্যক্রম শুরু করা এবং চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের জন্য দ্রুত পরিকল্পনা করা সহ কার্গো ফ্লাইট বাড়াতে টার্কিশ এয়ারলাইন্সসহ বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর সাথেও আলোচনা চলছে বলে তিনি জানান।

সিলেট বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমেদ জানান, ভয়েজার এয়ারলাইন্স মধ্যপ্রাচ্যের মাধ্যমে স্পেনে প্রথম কার্গো ফ্লাইট পরিচালনা করবে, যেখানে ৬০ টন পোশাক পরিবহন করা হবে। তিনি আরও বলেন, ‘২০২২ সালে ছাড়পত্র পাওয়ার পরও এখন পর্যন্ত কার্গো কার্যক্রম শুরু যায়নি।

এর আগে একটি ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ‘কিছু ঘটনা’কে ট্রান্সশিপমেন্ট বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেও কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।

যদিও এই সিদ্ধান্তের ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছু বাধা সৃষ্টি হয়েছে, শিল্প নেতারা বাংলাদেশের জন্য কার্গো অবকাঠামো উন্নয়নের একটি সুযোগ দেখছেন।বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, সমুদ্রপথের পাশাপাশি আকাশপথেও পণ্য পরিবহনের বিকল্প ব্যবস্থা থাকায় রপ্তানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। তিনি বলেন, ‘যদি সিলেট বিমানবন্দর কার্যকরভাবে চালু হয়, তাহলে আমরা সেখানে রপ্তানি স্থানান্তর করতে পারি।’

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এই পরিবর্তনকে সিলেট, চট্টগ্রাম, সৈয়দপুর এবং লালমনিরহাট বিমানবন্দর ব্যবহারের জন্য একটি ‘নতুন দরজা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে—এটাই এখন একমাত্র বিকল্প।’

ভারতের এমন সিদ্ধান্তের পর থেকে ঢাকা থেকে বিমান পরিবহনের হার আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। ইউরোপগামী পণ্যের ক্ষেত্রে পরিবহন ব্যয় প্রতি কেজি ৬.৩০–৬.৫০ মার্কিন ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রগামী পণ্যের ক্ষেত্রে ৭.৫০–৮.০০ ডলারে পৌঁছেছে। অথচ একই ধরনের পণ্য পরিবহন কলকাতা থেকে প্রতি কেজি ৪ ডলার এবং মালদ্বীপ থেকে ৩.৫০ ডলারে করা যাচ্ছে।

মোহাম্মদ হাতেম সরকারকে পরিবহন খরচ কমানোর আহ্বান জানান। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি কবির আহমেদ বেবিচক, বিমান সংস্থা এবং ফরওয়ার্ডারদের মধ্যে উন্নত সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত, শ্রীলঙ্কা এবং মালদ্বীপ রুট ব্যবহার করে প্রতিযোগিতামূলক হারে পণ্য পরিবহনের প্রস্তাব দেন

বর্তমানে আটটি কার্গো এয়ারলাইন্স ঢাকা হয়ে চলাচল করছে, যার মধ্যে রয়েছে এমিরেটস, কাতার ও টার্কিশ এয়ারলাইন্স। বছরের শেষ নাগাদ চালু হতে যাওয়া তৃতীয় টার্মিনালের মাধ্যমে অটোমেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে কার্গো সক্ষমতা দশগুণ বৃদ্ধির আশা করা হচ্ছে।

বেবিচক-এর মনজুর কবির জানান, জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ওপর নির্ভর করছে এই সময়সীমা। তিনি বলেন, ‘এক মাসের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে ছয় মাসের মধ্যে কার্যক্রম শুরু হতে পারে

  • কার্গো
  • বিমানবন্দর