বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণে প্রয়োজন ২ হাজার একর জমি

লেখক: রাইসুল ইসলাম
প্রকাশ: ৪ ঘন্টা আগে

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য নতুন উড়োজাহাজ কেনাসহ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে জাতীয় সংসদের সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে সব ধরনের ক্রয় প্রক্রিয়া ও প্রকল্প গ্রহণে স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন কমিটির সদস্যরা।

রোববার বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী। এতে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, কমিটির সদস্য এবং মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তর-সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সভায় মন্ত্রী বলেন, বিগত ২০ বছরে জবাবদিহিতার ধারাবাহিকতা বজায় না থাকায় পরিকল্পনাহীনভাবে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার যেকোনো ধরনের ক্রয় প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আধুনিকায়ন ও নতুন উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটিকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী। এখনই ক্রয়চুক্তি সম্পন্ন না করলে আগামী কয়েক বছরে বিমান তীব্র উড়োজাহাজ সংকটে পড়তে পারে।

তিনি বলেন, নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হতে প্রায় ১০ বছর সময় লাগবে। এ সময়ের মধ্যে বর্তমান বহরের উড়োজাহাজগুলো পর্যায়ক্রমে গ্রাউন্ডেড হয়ে পড়বে। ফলে ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় এখনই ক্রয়প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া জরুরি।

উড়োজাহাজ কেনায় সরকারের অর্থায়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, এ ক্রয়ে সরকার সরাসরি কোনো অর্থ ব্যয় করছে না। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স নিজস্ব আয় থেকে পর্যায়ক্রমে অর্থ পরিশোধ করবে। সরকার কেবল গ্যারান্টারের দায়িত্ব পালন করবে।

বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, অতীতে যেসব অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা হয়েছে, সেগুলোর যথাযথ তদন্ত করা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে।

বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের বিমানবন্দর নির্মাণে প্রায় ২ হাজার একর জমি প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ ওঠানামার উপযোগী রানওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সভায় মন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের সব কার্যক্রম স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

  • বগুড়া এয়ারপোর্ট
  • বগুড়া বিমানবন্দর
  • বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স
  • বিমানবন্দর
  • সর্বশেষ