ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইডদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করতে প্রয়োজনীয় ফি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
শনিবার রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকার ক্রাউন প্লাজায় বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, ট্যুর অপারেটরদের নিবন্ধনসংক্রান্ত বিদ্যমান বিধিমালা সংশোধনের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সুপারিশ ও প্রস্তাব সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে তাদের পেশাগত কার্যক্রম সহজ করা এবং পর্যটনশিল্পের বিকাশে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিদেশ থেকে অর্জিত আয়ের বিপরীতে ট্যুর অপারেটরদের বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এ প্রস্তাব অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ফোরামে উপস্থাপন করা হবে।
‘এআই পাওয়ার্ড ট্যুরিজম, সাসটেইনেবল ডেস্টিনেশন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এবারের মেলা সময়োপযোগী উল্লেখ করে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, পর্যটন এখন শুধু ভ্রমণ ও অবকাশযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার পর্যটন ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ, দ্রুত ও দক্ষ করতে পারে। পর্যটকদের নিরাপত্তা, পর্যটন গন্তব্য ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, সরকার একটি সমন্বিত পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ করছে। এতে বিভিন্ন শ্রেণি ও বৈশিষ্ট্যের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে এসব পর্যটনকেন্দ্র উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা প্রণয়নের কাজও চলছে।
কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগামী মাসে বিমানবন্দরটি উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে আগামী নভেম্বর থেকে তিন মাসব্যাপী কক্সবাজার পর্যটন কার্নিভাল আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করবে।
বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের টেকসই বিকাশে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা, ডিজিটাল সেবার আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
বিদেশি বিনিয়োগকারী ও পর্যটনশিল্পের অংশীজনদের বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও মানুষের আতিথেয়তা উপভোগ করতে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আমন্ত্রণ জানান।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয় এবং পর্যটন খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
