এভিয়েশনে দক্ষ জনবল তৈরিতে বিনিয়োগ জরুরি: হারুনুর রশিদ

লেখক: শাহানুর রহমান মুকুট
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

দেশের এভিয়েশন খাতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন এভিয়েশন ডট কম ডট বিডির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী হারুনুর রশিদ। তিনি বলেন, অর্থ থাকলে বড় বিমানবন্দর নির্মাণ করা সম্ভব, কিন্তু আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ জনবল তৈরি করতে সময় ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিমানবন্দর ও এয়ারলাইনসের সম্প্রসারণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জনবল তৈরি না হলে ভবিষ্যতে পরিচালনাগত সংকট দেখা দিতে পারে।

দেশের ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রির প্রথম পলিসি পডকাস্ট ‘চেক ইন বাংলাদেশ’-এর নবম পর্বে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা, যাত্রীসেবা, ব্যাগেজ ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, এয়ারলাইনসের পরিচালনাগত দক্ষতা এবং এভিয়েশন খাতে কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন হারুনুর রশিদ।

তিনি বলেন, একটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম ও যাত্রীসেবার মান মূলত চারটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে দক্ষ জনবল, কার্যকর প্রক্রিয়া, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অবকাঠামো। বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোতে এসব ক্ষেত্রে এখনো ঘাটতি রয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা দূর করতে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার এবং পেশাদার জনবল নিশ্চিত করা জরুরি।

ঢাকা বিমানবন্দরে ব্যাগেজ সরবরাহে বিলম্বের কারণ হিসেবে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও পরিচালনাগত জটিলতার কথা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, বিদ্যমান আটটি ব্যাগেজ ডেলিভারি বেল্টের তুলনায় ফ্লাইটের চাপ বেশি থাকায় যাত্রীদের লাগেজ পেতে দেরি হতো। এ ছাড়া লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, হারিয়ে যাওয়া ও চুরির অভিযোগ মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায় প্রতিযোগিতা চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়ে হারুনুর রশিদ বলেন, একাধিক প্রতিষ্ঠানকে সেবা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে মান যাচাই এবং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ঘাটতি কমানো সম্ভব। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের অভিজ্ঞ জনবল থাকলেও অতীতে নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতা, জনবলসংকট ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্বের কারণে সেবায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সেবার মান অনুযায়ী মূল্য পরিশোধ এবং কার্যকর সার্ভিস লেভেল এগ্রিমেন্ট নিশ্চিত করা জরুরি।

তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন টার্মিনাল পরিচালনায় দক্ষতা, প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস দায়িত্ব পেলে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল প্রস্তুত করতে হবে। শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না, সেটি কার্যকরভাবে পরিচালনার সক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে।

লো-কস্ট এয়ারলাইনসের ব্যবসায়িক মডেল ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এয়ার আরাবিয়ায় ১০ বছরের বেশি সময় কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন হারুনুর রশিদ। তিনি বলেন, কম খরচে সেবা দেওয়া মানেই নিম্নমানের সেবা নয়। ঐচ্ছিক সেবার ব্যয় কমানো, উড়োজাহাজের ব্যবহার বাড়ানো, কার্যকর রুট পরিকল্পনা এবং ফ্লাইটের মধ্যবর্তী সময় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পরিচালন ব্যয় কমানো সম্ভব।

তিনি জানান, এয়ার অ্যারাবিয়ায় একপর্যায়ে উড়োজাহাজের গ্রাউন্ড টাইম ছিল ৪০ মিনিট। এ সময়ের মধ্যে যাত্রী নামানো, প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ করা এবং পরবর্তী ফ্লাইটের প্রস্তুতি নেওয়া হতো। বাংলাদেশের এয়ারলাইনসগুলোরও সময়ানুবর্তিতা ও পরিচালনাগত দক্ষতা বাড়িয়ে ব্যয় কমানোর সুযোগ রয়েছে।

দেশের এভিয়েশন খাতে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ শিল্পে পাইলট ও কেবিন ক্রুর বাইরেও গ্রাউন্ড অপারেশন, যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা, বিক্রয়, বিপণন, রিজার্ভেশন, তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ রয়েছে। ফলে এ খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা ব্যাপক।

হারুনুর রশিদ বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় কয়েক হাজার কর্মীর প্রয়োজন হতে পারে। অথচ প্রয়োজনীয় জনবল তৈরি ও প্রশিক্ষণের প্রস্তুতি নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে স্বয়ংক্রিয় ব্যাগেজ হ্যান্ডলিংসহ আধুনিক প্রযুক্তি পরিচালনায় কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের এভিয়েশন প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, বিমানবন্দরের পরিচালনাগত কাজের জন্য স্বল্পমেয়াদি ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের সুযোগ সীমিত। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও) এবং আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) মান অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ও সনদ অর্জনের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও উৎসাহিত করা উচিত।

তিনি বলেন, প্রশিক্ষণকে শুধু ব্যবসায়িক পণ্য হিসেবে নয়, দক্ষ জনবল তৈরির দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে। ব্যবহারিক দক্ষতা ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান নিশ্চিত করা গেলে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।

এভিয়েশন খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী তরুণদের উদ্দেশে হারুনুর রশিদ বলেন, প্রথমে নিজের আগ্রহ ও দক্ষতা অনুযায়ী পেশা নির্বাচন করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট পদের যোগ্যতা, দায়িত্ব ও নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে হবে। এয়ারলাইনসের ক্যারিয়ার পেজ এবং আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ সংস্থার অনলাইন কোর্স এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। ইংরেজিতে যোগাযোগের সক্ষমতা, দলগতভাবে কাজ করা, শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তাবিষয়ক নিয়ম বোঝার দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ।

দেশের ভ্রমণ বিষয়ক প্রথম ডিজিটাল মিডিয়া ‘চেক ইন’-এ প্রতি শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় প্রচারিত হয় ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রির প্রথম পলিসি পডকাস্ট ‘চেক ইন বাংলাদেশ’। অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা ও উপস্থাপনা করেন চেক ইন-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী নাঈম আবির। প্রযোজনা করেন শাহানুর রহমান মুকুট। অনুষ্ঠানটির হসপিটালিটি পার্টনার ছুটি রিসোর্ট কক্সবাজার।

  • travel based first digital media
  • এভিয়েশন
  • এভিয়েশন ডট কম ডট বিডি
  • চেক ইন বাংলাদেশ
  • জনবন
  • থার্ড টার্মিনাল
  • পলিসি পডকাস্ট
  • ভ্রমণ বিষয়ক প্রথম ডিজিটাল মিডিয়া