নভেম্বরেই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নামছে কক্সবাজার বিমানবন্দর

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

দেশীয় পর্যটনের গণ্ডি পেরিয়ে এবার আন্তর্জাতিক আকাশপথের নতুন গন্তব্য হতে যাচ্ছে কক্সবাজার। আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পর্যটকদের বিদেশ যাতায়াতে ঢাকার ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি কক্সবাজার থেকেই সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আন্তর্জাতিক এই যাত্রায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট চালুর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে মালয়েশিয়ার স্বল্পমূল্যের উড়োজাহাজ সংস্থা এয়ারএশিয়া কক্সবাজার থেকে মালয়েশিয়ার পেনাংয়ে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করেছে। তবে ফ্লাইট শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়সূচি এখনো নিশ্চিত হয়নি।

শুধু পেনাং নয়, কক্সবাজার–কাঠমান্ডু–কক্সবাজার রুটেও সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকেও সরাসরি ফ্লাইটের মাধ্যমে পর্যটক আনার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নির্মাণ করা হয়েছে নতুন যাত্রী টার্মিনাল। প্রায় ৩৬২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই টার্মিনালের আয়তন ১৭ হাজার ৯৫৫ বর্গমিটার। গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন টার্মিনাল ব্যবহার করে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের যাত্রীসেবা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য রাখা হয়েছে চারটি বহির্গমন ও ছয়টি আগমন ইমিগ্রেশন কাউন্টার এবং দুটি লাগেজ বেল্ট। সমুদ্রের ঢেউ ও শামুকের খোলসের আদলে তৈরি টার্মিনালটি চালুর ফলে বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা সক্ষমতা বাড়বে।

বড় উড়োজাহাজ পরিচালনার উপযোগী করতে রানওয়ের দৈর্ঘ্যও বাড়ানো হয়েছে। আগের ৯ হাজার ফুট রানওয়ে সম্প্রসারণ করে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করা হয়েছে। এ জন্য বঙ্গোপসাগর থেকে প্রায় ৪৩ হেক্টর জমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্মাণ করা হয়েছে ৩৬ হাজার ৩০০ বর্গমিটারের অ্যাপ্রোন। এতে একই সঙ্গে দুটি ওয়াইডবডি ও তিনটি ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ পার্ক করার সুবিধা রয়েছে।

নতুন টার্মিনাল, সম্প্রসারিত রানওয়ে ও আধুনিক অবকাঠামোর মাধ্যমে কক্সবাজার বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে বিদেশি পর্যটকদের সরাসরি কক্সবাজারে আসার সুযোগ বাড়তে পারে। এতে পর্যটন, হোটেল-রিসোর্ট ও পরিবহন খাতেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

তবে পেনাং, কাঠমান্ডু ও কুনমিংয়ের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও ফ্লাইট সূচি প্রয়োজন। নভেম্বরের আনুষ্ঠানিক যাত্রার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজার বিমানবন্দরের সামনে খুলতে পারে আন্তর্জাতিক আকাশপথে সংযোগ বাড়ানোর নতুন সুযোগ।

  • কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর