লাগেজ হারালে বা কাটা-ছেঁড়া গেলে সবার আগে যা করবেন

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার ক্লান্তিকর ফ্লাইট শেষে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে লাগেজ বেল্টের সামনে অপেক্ষা করছেন আপনি। একে একে অন্য যাত্রীদের ব্যাগ চলে এলেও আপনার লাগেজের দেখা নেই। একসময় বেল্টের কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে গেল। তখন স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ে। কারণ, লাগেজের ভেতরেই হয়তো রয়েছে প্রয়োজনীয় পোশাক, মূল্যবান সামগ্রী কিংবা জরুরি কাগজপত্র।

আবার কখনো লাগেজ পাওয়া গেলেও দেখা যায়, ব্যাগটি কাটা, ছেঁড়া, ভাঙা কিংবা এর চাকা বা অন্য কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক যাত্রী কী করবেন, কোথায় অভিযোগ জানাবেন কিংবা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য কী কী নথি প্রয়োজন, তা বুঝতে পারেন না।

তবে লাগেজ হারানো, দেরিতে পাওয়া কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে শুরুতেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে, অভিযোগ নথিভুক্ত না করে বিমানবন্দর ছেড়ে গেলে পরবর্তী সময়ে দাবি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে।

লাগেজ হাতে পাওয়ার পর প্রথমেই সেটি ভালোভাবে পরীক্ষা করে নিন। ব্যাগের গায়ে কাটা বা ছেঁড়ার দাগ, ভাঙা হাতল, নষ্ট চাকা কিংবা অন্য কোনো দৃশ্যমান ক্ষতি আছে কি না, তা দেখুন। কোনো সমস্যা চোখে পড়লে বিমানবন্দর ছাড়ার আগেই সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের ব্যাগেজ সার্ভিস বা ব্যাগেজ ক্লেইমস ডেস্কে যোগাযোগ করুন। প্রয়োজনে লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড ডেস্ক থেকেও সহায়তা নিতে পারেন।

শুধু মৌখিকভাবে অভিযোগ জানানো যথেষ্ট নয়। ক্ষতিগ্রস্ত লাগেজের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক রিপোর্ট করতে হবে। এ সময় ফ্লাইটের তথ্য, ব্যাগেজ ট্যাগ এবং লাগেজের রং, আকার, ব্র্যান্ড ও শনাক্তকারী চিহ্ন সম্পর্কে তথ্য দিতে হতে পারে। অভিযোগের পর পাওয়া রিপোর্ট, রেফারেন্স নম্বর কিংবা নথির কপি নিজের কাছে সংরক্ষণ করুন। পরবর্তী সময়ে ক্ষতিপূরণ দাবি করার ক্ষেত্রে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

অন্যদিকে, লাগেজ বেল্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও ব্যাগ না পেলে প্রথমেই ধরে নেওয়া যাবে না যে সেটি স্থায়ীভাবে হারিয়ে গেছে। কখনো আগের বিমানবন্দরে থেকে যাওয়া, সংযোগকারী ফ্লাইটে উঠতে না পারা কিংবা পরিবহন ব্যবস্থাপনার সমস্যার কারণে লাগেজ দেরিতে পৌঁছাতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের ব্যাগেজ ডেস্কে গিয়ে অভিযোগ জানাতে হবে। সঙ্গে রাখুন বোর্ডিং পাস, টিকিট ও ব্যাগেজ ট্যাগ। লাগেজের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যও দিতে হবে। এরপর সাধারণত প্রপার্টি ইরেগুলারিটি রিপোর্ট বা পিআইআর তৈরি করা হয়, যার মাধ্যমে নিখোঁজ কিংবা বিলম্বিত লাগেজ শনাক্ত ও খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই রিপোর্টের রেফারেন্স নম্বরটি সংরক্ষণ করা জরুরি।

পিআইআর জমা দেওয়ার পরও এয়ারলাইনসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা উচিত। লাগেজের সর্বশেষ অবস্থান, সম্ভাব্য সরবরাহের সময় এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে খোঁজ নিন। আর লাগেজ না পাওয়ার কারণে গন্তব্যে প্রয়োজনীয় পোশাক, প্রসাধনসামগ্রী বা অন্যান্য জরুরি জিনিস কিনতে হলে সেগুলোর রসিদ সংরক্ষণ করুন। এয়ারলাইনসের নীতিমালা ও প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী যুক্তিসংগত জরুরি খরচের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তবে সব ধরনের কেনাকাটার অর্থ ফেরত পাওয়া নিশ্চিত নয়।

লাগেজ দীর্ঘ সময়েও ফেরত না এলে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি সামনে আসে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে মন্ট্রিয়ল কনভেনশন প্রযোজ্য হলে, চেকড লাগেজ বিমানে পৌঁছানোর নির্ধারিত তারিখ থেকে ২১ দিনের মধ্যে না পৌঁছালে যাত্রী সেটিকে হারানো হিসেবে বিবেচনা করে দাবি জানাতে পারেন। তবে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অভিযোগ ও দাবি জমা দেওয়ার নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সাধারণত লাগেজ গ্রহণের পরপরই লিখিত অভিযোগ করা গুরুত্বপূর্ণ; মন্ট্রিয়ল কনভেনশনের আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত চেকড লাগেজের ক্ষেত্রে লিখিত অভিযোগের সময়সীমা সাধারণত লাগেজ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে। বিলম্বিত লাগেজের ক্ষেত্রে লিখিত অভিযোগের সময়সীমা সাধারণত লাগেজ সরবরাহের ২১ দিনের মধ্যে।

ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আন্তর্জাতিক আইন, প্রকৃত ক্ষতি, লাগেজের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ম বিবেচনা করা হয়। তাই শুধু লাগেজ হারিয়েছে বলেই নির্দিষ্ট অঙ্কের ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। প্রয়োজনীয় নথি, কেনাকাটার রসিদ এবং অভিযোগের প্রমাণ সংরক্ষণ করাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার প্রকাশিত ব্যাগেজ-সংক্রান্ত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ভুলভাবে ব্যবস্থাপিত লাগেজের বড় অংশই স্বল্প সময়ের মধ্যে যাত্রীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তবে লাগেজ দেরিতে পৌঁছানো, হারিয়ে যাওয়া কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটলে দ্রুত অভিযোগ জানানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তাই লাগেজ নিয়ে সমস্যায় পড়লে আতঙ্কিত না হয়ে বিমানবন্দরেই সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসকে জানান, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নথিভুক্ত করুন এবং পিআইআর বা অভিযোগের রেফারেন্স নম্বরটি সংরক্ষণ করুন। মনে রাখবেন, লাগেজ দেরিতে আসতে পারে, কিন্তু অভিযোগ জানাতে দেরি করলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার প্রক্রিয়া জটিল হয়ে যেতে পারে।

  • লাগেজ কাটা
  • লাগেজ চুরি