প্রশিক্ষণ বিমানের জন্য আলাদা রানওয়ে নয়, বিদ্যমান সুবিধাই ব্যবহার করবে সরকার
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের জন্য নতুন কোনো স্বতন্ত্র রানওয়ে বা বিমানঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
সংরক্ষিত নারী আসন-৪১-এর সংসদ সদস্য মাহফুজা হান্নানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তা ও আকাশ প্রতিরক্ষায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে। বিশেষ করে রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অবকাঠামোর নিরাপত্তায় বাহিনীর প্রস্তুত সক্ষমতা বজায় রাখা প্রয়োজন।
তারেক রহমান বলেন, পৃথক বিমানঘাঁটি ও রানওয়ে নির্মাণ একটি ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প। দেশের সীমিত ভূমি এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই বেশি বাস্তবসম্মত। তাই শুধু প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের জন্য নতুন রানওয়ে নির্মাণের প্রয়োজন দেখছে না সরকার।
২০২৫ সালের ২১ জুলাই রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে বিধ্বস্ত হয়। ওই দুর্ঘটনায় ব্যাপক হতাহতের পর ঢাকার জনবহুল এলাকায় প্রশিক্ষণ বিমান পরিচালনা বন্ধের দাবি জোরালো হয়।
দুর্যোগের পূর্বাভাসে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ
আবহাওয়া পূর্বাভাস নিয়েও সংসদে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়লেও আবহাওয়া পূর্বাভাসে বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে—এমন দাবি সঠিক নয়।
তিনি জানান, আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এখন ৫ থেকে ১০ দিনের আগাম পূর্বাভাস দিচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়, ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতসহ বিভিন্ন দুর্যোগের ক্ষেত্রেও আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে।
পূর্বাভাস আরও নির্ভুল করতে পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক বাড়ানো, উন্নত ডেটা বিশ্লেষণ এবং দক্ষ জনবল তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
দেশীয়ভাবে ড্রোন তৈরির পরিকল্পনা
প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে দেশে ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও নিয়েছে সরকার।
সংরক্ষিত নারী আসন-২-এর সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহুমাত্রিক হুমকি মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীর সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সমুদ্র এলাকায় নজরদারি জোরদারেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে সংরক্ষিত নারী আসন-১০-এর সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অসামরিক কার্যক্রমে সশস্ত্র বাহিনীর অংশগ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে।
সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ এবং ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ নির্দেশিকার আওতায় নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা, দুর্যোগ ও সংকট মোকাবিলায় অসামরিক প্রশাসনকে সশস্ত্র বাহিনী সহায়তা করে থাকে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ১২৯ ধারার আওতায় প্রয়োজন অনুযায়ী অসামরিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীকে আইনগত ক্ষমতা দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
