দেশের পর্যটন সম্ভাবনাময় গ্রামগুলোকে কেন্দ্র করে নতুন পর্যটন স্পট গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর গ্রামসহ আরও কয়েকটি গ্রামে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।
বুধবার রাজধানীর পর্যটন ভবনে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড আয়োজিত ‘ইকো-ট্যুরিজম প্রসারে সরকারি-বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্ব ও সচেতনতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।
মন্ত্রী বলেন, দেশের ৬৪ জেলার পর্যটন সম্ভাবনাময় স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্যে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে পর্যটন খাতের উন্নয়নে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে ট্যুরিজম হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সহজ নয়। এ জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও অন্যান্য অংশীজনের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন। উন্নয়ন পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের মধ্যে তথ্যের ঘাটতি দূর করতে নিয়মিত বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সেমিনারে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব ফাহমিদা আখতার। তিনি জানান, পর্যটন খাতের প্রকৃত অবস্থা ও অর্থনৈতিক অবদান নিরূপণে ‘ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট’-এর কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ইকো-ট্যুরিজম নীতিমালা প্রণয়নের কাজও চলছে।
সচিব বলেন, অতীতে বিভিন্ন পর্যায়ে সমন্বয়হীনতার কারণে পর্যটন খাতের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনদের সহযোগিতায় এ সমস্যা কাটিয়ে পর্যটন খাতকে আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সেমিনারে বাংলাদেশের ইকো-ট্যুরিজমের গুরুত্ব, বর্তমান পরিস্থিতি, সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আব্দুর রউফ।
