ভারত উড়ছে, পাকিস্তান ডুবছে, বাংলাদেশ কোথায়?

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্স এয়ার ইন্ডিয়া, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স (পিআইএ) এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বর্তমানে তিন ভিন্ন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। একদিকে এয়ার ইন্ডিয়া দ্রুত সম্প্রসারণের মাধ্যমে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে, অন্যদিকে পিআইএ দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে উঠতে লড়াই করছে। আর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জের মধ্যবর্তী এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে অবস্থান করছে।

কয়েক বছর আগেও এয়ার ইন্ডিয়া বড় অঙ্কের ঋণ, দীর্ঘমেয়াদি লোকসান এবং পরিচালনগত দুর্বলতায় সংকটে ছিল। পরে প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় টাটা গ্রুপের মালিকানায় ফিরে যাওয়ার পর ব্যাপক পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হয়। বহর সম্প্রসারণ, নতুন উড়োজাহাজ অর্ডার, আন্তর্জাতিক রুট বৃদ্ধি এবং দিল্লি ও মুম্বাইকে ট্রানজিট হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আবারও বৈশ্বিক বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে, একসময় এশিয়ার অন্যতম সুনামধন্য এয়ারলাইন্স হিসেবে পরিচিত পিআইএ গত কয়েক বছরে বড় ধরনের সংকটে পড়ে। ২০২০ সালের পাইলট লাইসেন্স বিতর্কের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের ফ্লাইট সীমিত হয়ে যায়, যা প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ও আর্থিক অবস্থার ওপর বড় প্রভাব ফেলে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি সামাল দিতে পাকিস্তান সরকার পুনর্গঠন ও বেসরকারিকরণের উদ্যোগ নেয়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অবস্থান এই দুই উদাহরণের মাঝামাঝি। গত এক দশকে বহরে বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার, বোয়িং ৭৩৭ এবং ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি নিজস্ব রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কার্গো কার্যক্রম সম্প্রসারণেও কিছু অগ্রগতি হয়েছে।

তবে এভিয়েশন বিশ্লেষকদের মতে, বিমানের সামনে এখনও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সীমিত বহর, আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের ধীরগতি, সময়ানুবর্তিতা, সেবার মান এবং বৈশ্বিক ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। এসব কারণে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি এখনও কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি।

তবে সম্ভাবনার দিকও রয়েছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি, প্রবাসী যাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক ভ্রমণের চাহিদা, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, বহর বৃদ্ধি, প্রতিযোগিতামূলক রুট নেটওয়ার্ক, উন্নত সেবা এবং দক্ষ পরিচালনা নিশ্চিত করা গেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী জাতীয় এয়ারলাইন্স হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে সক্ষম হতে পারে।

দক্ষিণ এশিয়ার এভিয়েশন খাতে বর্তমানে তিনটি ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে পুনরুত্থানের পথে এয়ার ইন্ডিয়া, সংকট মোকাবিলায় পিআইএ এবং সম্ভাবনার সন্ধিক্ষণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এখন দেখার বিষয়, ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ কতটা কার্যকরভাবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে।

  • এয়ার ইন্ডিয়া
  • পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স
  • বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স