এমিরেটস-কাতারের জমজমাট ব্যবসা, বিমান কেন পারছে না?

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ ঘন্টা আগে

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে নিয়মিতভাবেই লাভজনক প্রতিষ্ঠানের তালিকায় থাকে এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স, ডেল্টা এয়ার লাইনস, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স ও রায়ানএয়ার। একই বৈশ্বিক বিমানবাজারে পরিচালনা করেও এসব প্রতিষ্ঠান প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জন করছে। অন্যদিকে, জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আর্থিক ও পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে এই পার্থক্যের মূল কারণ কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সফল এয়ারলাইন্সগুলোর অন্যতম শক্তি হলো শক্তিশালী ট্রানজিট হাব। দুবাই, দোহা কিংবা সিঙ্গাপুরের মতো শহরগুলো শুধু নিজ দেশের যাত্রী নয়, ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা ও আমেরিকার বিপুল সংখ্যক ট্রানজিট যাত্রীকে আকৃষ্ট করে। ফলে এসব এয়ারলাইন্সের বাজার কেবল নিজ দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তারা বৈশ্বিক যাত্রীপ্রবাহ থেকে আয় করার সুযোগ পায়।

আরেকটি বড় কারণ হলো আয়ের বহুমুখীকরণ। আধুনিক এয়ারলাইন্সগুলো শুধু টিকিট বিক্রির ওপর নির্ভরশীল নয়। কার্গো পরিবহন, লয়্যালটি প্রোগ্রাম, অতিরিক্ত ব্যাগেজ ফি, সিট নির্বাচন, ইন-ফ্লাইট বিক্রি, হলিডে প্যাকেজ এবং বিমান রক্ষণাবেক্ষণ সেবাসহ বিভিন্ন উৎস থেকে তারা উল্লেখযোগ্য আয় করে। অনেক ক্ষেত্রে এসব আনুষঙ্গিক আয়ই প্রতিষ্ঠানের মুনাফার বড় অংশ গড়ে তোলে।

পরিচালন দক্ষতাও সফলতার অন্যতম ভিত্তি। লাভজনক এয়ারলাইন্সগুলো বহরের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে, জ্বালানি-সাশ্রয়ী আধুনিক উড়োজাহাজ পরিচালনা করে এবং নিয়মিত রুট বিশ্লেষণের মাধ্যমে অলাভজনক রুটে দীর্ঘদিন লোকসান বহন করে না।

অন্যদিকে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ক্ষেত্রে কয়েকটি কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করছেন এভিয়েশন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, বাংলাদেশ এখনো একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক ট্রানজিট হাব হিসেবে গড়ে ওঠেনি। ফলে আন্তর্জাতিক ট্রানজিট যাত্রীর সংখ্যা সীমিত এবং যাত্রী নির্ভরতা মূলত বাংলাদেশ থেকেই শুরু ও শেষ হওয়া ভ্রমণের ওপর নির্ভরশীল।

এ ছাড়া বিমানের বহর তুলনামূলক ছোট হওয়ায় নতুন রুট চালু করা কিংবা বিদ্যমান রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোও সহজ নয়। যেখানে বিশ্বের বড় এয়ারলাইন্সগুলো শত শত উড়োজাহাজ পরিচালনা করে, সেখানে সীমিত বহর নিয়ে প্রতিযোগিতা করা বিমান বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশ্লেষকদের মতে, কার্গো, লয়্যালটি প্রোগ্রাম, কোড-শেয়ার চুক্তি, প্রিমিয়াম সেবা এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকেও বিমান এখনও সম্ভাব্য আয় পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি। এসব খাতে উন্নয়ন ঘটানো গেলে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা আরও বাড়তে পারে।

তবে সম্ভাবনাও কম নয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, ক্রমবর্ধমান প্রবাসী বাজার, পর্যটন খাতের সম্প্রসারণ এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যবর্তী ভৌগোলিক অবস্থান ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

এভিয়েশন খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, প্রতিযোগিতামূলক রুট নেটওয়ার্ক, বহুমুখী আয়ের উৎস, উন্নত যাত্রীসেবা এবং দক্ষ পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তবেই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।

  • বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স