আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মোট বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে ৮৭৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা, যা বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ৫০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা কম। তবে গত অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় নতুন প্রস্তাবিত বরাদ্দ কিছুটা বেশি।
বাজেট নথি অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে মন্ত্রণালয়টির মোট বরাদ্দ ছিল ৯৩০ কোটি ৬১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এর আগে একই অর্থবছরের মূল বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৮৫৫ কোটি টাকা।
নতুন অর্থবছরেও মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে বড় বরাদ্দ পাচ্ছে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)। সংস্থাটির জন্য ৬০১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয়ের জন্য ২৯৪ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য ৩০৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। যদিও বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বিএমইটির মোট বরাদ্দ ছিল ৬৩৬ কোটি ৪৪ লাখ ৭ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, মন্ত্রণালয়ের সচিবালয় অংশের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২৭৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালন খাতে ১৬৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ১০৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ২৯৪ কোটি ১৭ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।
সামগ্রিকভাবে, নতুন অর্থবছরের বাজেটে উন্নয়ন ব্যয়ের তুলনায় পরিচালন ব্যয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পরিচালন খাতে মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৪৬২ কোটি ৬২ লাখ টাকা, যা আগের অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ৪৩৪ কোটি ৮ লাখ ২ হাজার টাকা থেকে বেড়েছে। বিপরীতে উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ কমিয়ে ৪১৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৪৯৬ কোটি ৫৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ ও প্রবাসী সেবার উন্নয়নের লক্ষ্য থাকলেও নতুন বাজেটে উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ কমে যাওয়া ভবিষ্যৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সেবা সম্প্রসারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
