দেশের বিমানবন্দরগুলোতে কার্গো স্ক্রিনিং সক্ষমতা বাড়ল
লেখক:
শাহানুর রহমান মুকুট প্রকাশ: ১০ ঘন্টা আগে
বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোতে রপ্তানি কার্গো স্ক্রিনিং সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিস্ফোরক শনাক্তকারী কুকুর (ইডিডি) পদ্ধতির মাধ্যমে সরাসরি যুক্তরাজ্যগামী রপ্তানি কার্গো স্ক্রিনিংয়ের অনুমোদন পুনর্বহাল করা হয়েছে। পাশাপাশি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এ দ্বিতীয় বিস্ফোরক শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (ইডিএস) চালু হওয়ায় কার্গো নিরাপত্তা ও স্ক্রিনিং সক্ষমতা আরও বেড়েছে।
আজ রোববার(২৪ মে) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এর মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানি কার্গো নিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যগামী পণ্যের নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য হবে। এতে রপ্তানি কার্যক্রমে আস্থা বাড়বে এবং বিলম্ব বা অতিরিক্ত পুনঃপরীক্ষার ঝুঁকিও কমে আসবে।
ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এ দ্বিতীয় ইডিএস চালু হওয়ায় স্ক্রিনিং সক্ষমতা আরও বেড়েছে। এর ফলে কার্গো প্রক্রিয়াজাতকরণে সময় কমবে, রপ্তানি কার্যক্রমে গতি আসবে এবং বাড়তি চাপ সামাল দেওয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।
বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাজ্যে রপ্তানি কার্গো পাঠানোর উদ্দেশ্যে ২০১৭ সালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ‘থার্ড কান্ট্রি ইইউ এভিয়েশন সিকিউরিটি ভেলিডেটেড রেগুলেটেড এজেন্ট (আরএ৩) ভেলিডেশন’ অর্জন করে। এর আওতায় রপ্তানি কার্গো স্ক্রিনিংয়ে ইডিএস, এক্স-রে, ইটিডি ও ইডিডি—এই চারটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।
তবে ২০২১ সালে যুক্তরাজ্যের পরিবহন বিভাগ (ডিএফটি) সরাসরি যুক্তরাজ্যগামী কার্গোর ক্ষেত্রে ইডিডি পদ্ধতির অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। পরে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর উদ্যোগ, ধারাবাহিক কূটনৈতিক ও কারিগরি সমন্বয় এবং ডিএফটি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যগামী কার্গোর জন্য ইডিডি পদ্ধতির অনুমোদন পুনর্বহাল করা সম্ভব হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একই সঙ্গে নতুন নতুন এয়ারলাইনস ‘তৃতীয় দেশের বিমানবন্দর থেকে ইউরোপীয় দেশগুলোতে কার্গো ও ডাক পরিবহনকারী এয়ার ক্যারিয়ার (এসিসি৩) ভেলিডেশন’ অর্জনের মাধ্যমে সরাসরি কার্গো পরিবহনের সক্ষমতা অর্জন করবে।
এদিকে, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ২০২১ সালে আরএ৩ ভেলিডেশন অর্জনের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে সরাসরি রপ্তানি কার্গো কার্যক্রম শুরু করে। কিছু সময় এ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে পুনরায় নিয়মিত কার্গো অপারেশন চালু রয়েছে। বিমানবন্দরটিতে আগে থেকেই ইডিএস, এক্স-রে এবং ইটিডি পদ্ধতিতে স্ক্রিনিং পরিচালিত হচ্ছিল।