শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালে মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপনে সরকারের কাছে ৪৮ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান টেলিটক। দেশের অ্যাভিয়েশন খাতের অন্যতম বড় এই অবকাঠামো প্রকল্পের ভেতরে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় টার্মিনালটি পুরোপুরি চালুর ক্ষেত্রে নতুন জটিলতা তৈরি হওয়ায় তারা এ প্রস্তাব দেয়।
প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত থার্ড টার্মিনাল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প। ২০২৩ সালের অক্টোবরে টার্মিনালটির আংশিক উদ্বোধন করা হলেও এখনো এটি পুরোপুরি যাত্রীদের জন্য চালু করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্মাণকাজের শুরু থেকেই টার্মিনালের ভেতরে মোবাইল নেটওয়ার্ক অবকাঠামো তৈরির বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব না পাওয়ায় শেষ পর্যায়ে এসে বড় ধরনের ঘাটতি সামনে এসেছে।
এই সংকট সমাধানে টেলিটক ৪৮ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব জমা দিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এর মধ্যে প্রায় ২৯ কোটি টাকা সরকার ঋণ হিসেবে দেবে। মোট বাজেটের বড় অংশ, প্রায় ৪৩ কোটি টাকা ব্যয় হবে টেলিকম যন্ত্রপাতি কেনার পেছনে। এসব আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে টার্মিনালের ভেতরে যাত্রীদের ৫০ এমবিপিএস থেকে সর্বোচ্চ ১ জিবিপিএস পর্যন্ত ডাউনলিংক স্পিডের নেটওয়ার্ক সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
টেলিটক আশা করছে, অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই থার্ড টার্মিনালের নেটওয়ার্ক স্থাপনের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাদের মতে, টার্মিনাল নির্মাণের শুরুতেই নেটওয়ার্ক অবকাঠামো নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা করা উচিত ছিল। দেশের অন্যান্য মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গেও আগে থেকেই আলোচনা করে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা বেশি কার্যকর হতে পারত। কিন্তু দীর্ঘ সময় বিষয়টি উপেক্ষিত থাকায় এখন শেষ মুহূর্তে নতুন করে বড় অঙ্কের ব্যয়ের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, শুধু পাবলিক ওয়াইফাই দিয়ে বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় যোগাযোগের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। কারণ সব যাত্রী উন্মুক্ত ওয়াইফাই ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। নিরাপত্তার কারণে অনেকে ব্যক্তিগত মোবাইল নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করেন। পাশাপাশি জরুরি যোগাযোগ, ভয়েস কল, নিরাপত্তা সমন্বয় এবং যাত্রীসেবার জন্য নির্ভরযোগ্য মোবাইল নেটওয়ার্ক অপরিহার্য।
দেশের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকা যাত্রীসেবা ও অ্যাভিয়েশন নিরাপত্তার দিক থেকে বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা তৈরি করতে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
