সরকার একই সঙ্গে নিয়োগকর্তাদের জন্য নির্ধারণ করছে, কতদিন পর্যন্ত একই ভিসাধারীকে স্পনসর করা যাবে। এই সিদ্ধান্ত হঠাৎই নেওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা যেমন বাড়ি বা গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
১৯৬০-এর দশকে যুক্তরাজ্যের শাসন থেকে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে মালয়েশিয়া। কয়েক দশক ধরে দেশটি বিদেশি শ্রমিকদের কাছে একটি আকর্ষণীয় কর্মসংস্থান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
মালয়েশিয়ায় ২১ লাখ নিবন্ধিত বিদেশি শ্রমিকের মধ্যে অনেকেই কায়িক শ্রমের কাজ করেন, যেখানে তাদের মাসিক গড় বেতন প্রায় ১,৭০০ রিঙ্গিত বা ৪৩০ ডলার। এর বাইরে একটি সীমিত সংখ্যক শ্রমিক উচ্চ বেতনের বিশেষায়িত খাতে কাজ করেন, যেমন অর্থায়ন, সেমিকন্ডাক্টর এবং তেল ও গ্যাস শিল্প।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিওন জানিয়েছেন, দেশটিতে উচ্চ বেতনের অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার। এরা দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে বছরে প্রায় ৭,৫০০ কোটি রিঙ্গিত (প্রায় ১,৯০০ কোটি মার্কিন ডলার) অবদান রাখছেন।
এর পাশাপাশি তারা সরকারের কাছে প্রায় ১০ কোটি রিঙ্গিত বা ২ কোটি ৫০০ লাখ ডলার করও প্রদান করছেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ৩ কোটি ৪০ লাখ জনসংখ্যার মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমবাজারকে কেন্দ্র করে বিতর্ক ক্রমবর্ধমান হয়েছে।
২০২৫ সালে প্রকাশিত সর্বশেষ পাঁচ বছরের জাতীয় নীতিকৌশলে সরকার সতর্ক করেছেন যে, কম দক্ষ বিদেশি শ্রমিকদের ওপর ‘ক্রমাগত নির্ভরতা’ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির ব্যবহারকে বাধাগ্রস্ত করছে।
স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজরি ফার্ম এফএসজি অ্যাডভাইজরির প্রধান নির্বাহী অ্যান্থনি দাস মন্তব্য করেছেন, নতুন নীতি মধ্যম স্তরের প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়ার জনগণ কীভাবে উপকৃত হবে তা নির্ভর করবে স্থানীয় কর্মী বাহিনী গড়ে তোলার নীতি কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে তার ওপর।
এফএসজি অ্যাডভাইজরির প্রধান নির্বাহী জানিয়েছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ স্থানীয় প্রতিভা বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে এর চূড়ান্ত প্রভাব নির্ভর করবে সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং শিল্প মানোন্নয়নের সাথে সম্পর্কিত সংস্কারগুলোর কার্যকারিতার ওপর।
মালয়েশিয়ার এক নাগরিককে বিয়ে করা ৩৩ বছর বয়সী যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ব্যবস্থাপক জোশুয়া ওয়েবলি বলেন, তিনি মালয়েশিয়ায় চাকরিতে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়ার উদ্যোগকে সম্পূর্ণ সমর্থন করেন। তার মতে, এই পরিবর্তন সঠিক দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের বাধা দিতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, যারা মালয়েশিয়ায় আসতে চান, তাদের যথেষ্ট দক্ষতা থাকতে হবে। উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়া এখনও একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য।