চালু হচ্ছে এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহৎ লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২ মাস আগে

দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ এই বিমানঘাঁটি সংস্কার করে চালু করা গেলে উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি, যোগাযোগ ও বাণিজ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিমানবন্দরটি চালুর উদ্যোগ জোরদার করতে গত ৩ মার্চ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার কাছে একটি আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠিয়েছেন। পত্রে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ এই বিমানবন্দরটি কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। দ্রুত সংস্কার করে এটি চালু করা গেলে উত্তরাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯৩১ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার নেপাল, ভুটান এবং ভারতের অন্তত ১৩টি অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করতে লালমনিরহাটে একটি বৃহৎ বিমানঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়। লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ও হারটি এলাকায় প্রায় ১ হাজার ১৬৬ একর জমির ওপর নির্মিত হয় এই বিমানঘাঁটি। সে সময় ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রেলপথে পাথর ও নির্মাণ সামগ্রী এনে প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ রানওয়ে ও অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৫ সালের দিকে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৯৫৮ সালে স্বল্প পরিসরে যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালু হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে এটিকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সদর দপ্তর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে রানওয়ে, টারম্যাক, ট্যাক্সিওয়ে ও হ্যাংগারসহ অবকাঠামো অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু হলে উত্তরাঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়বে এবং কৃষি ও শিল্পপণ্য দ্রুত দেশ-বিদেশে পরিবহনের সুযোগ তৈরি হবে। কার্গো পরিবহনের সুবিধা বাড়লে এই অঞ্চলকে একটি আঞ্চলিক বাণিজ্যিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনাও রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উন্নত বিমান যোগাযোগ চালু হলে উত্তরাঞ্চলের পর্যটন, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। নেপাল, ভুটান ও ভারতের উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি ভবিষ্যতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

উত্তরাঞ্চলের মানুষ আশা করছেন, সরকারের উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু হবে এবং ঐতিহাসিক এই বিমানঘাঁটি আবারও সক্রিয় হয়ে উঠবে।

  • লালমনিরহাট বিমানবন্দর