দ্বিতীয় রানওয়ে ছাড়া থার্ড টার্মিনাল কি সত্যিই জিরো?

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ ঘন্টা আগে

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। তবে এরই মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে দ্বিতীয় রানওয়ের প্রয়োজনীয়তা। অনেকের দাবি, দ্বিতীয় রানওয়ে ছাড়া থার্ড টার্মিনালের পূর্ণ সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। আবার কেউ কেউ বলছেন, একটি রানওয়ে দিয়ে এত বড় বিমানবন্দর পরিচালনা করাই অসম্ভব। কিন্তু বাস্তবতা কী বলছে?

বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, রানওয়ে এবং টার্মিনাল দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন অবকাঠামো। রানওয়ে নির্ধারণ করে একটি বিমানবন্দর প্রতি ঘণ্টায় কতটি উড়োজাহাজ নিরাপদে ওঠানামা করাতে পারবে। অন্যদিকে টার্মিনাল নির্ধারণ করে কতজন যাত্রীকে দ্রুত, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে সেবা দেওয়া যাবে। অর্থাৎ, রানওয়ে বাড়ায় ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা, আর টার্মিনাল বাড়ায় যাত্রীসেবার সক্ষমতা।

বিশ্বের বেশ কয়েকটি ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দীর্ঘদিন ধরেই মাত্র একটি রানওয়ে ব্যবহার করে কোটি কোটি যাত্রীকে সেবা দিয়ে আসছে। যুক্তরাজ্যের লন্ডন গ্যাটউইক বিমানবন্দর বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত একক রানওয়ে বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিত। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং পর্তুগালের লিসবন বিমানবন্দরও একটি রানওয়ে দিয়েই প্রতিবছর কয়েক কোটি যাত্রী পরিচালনা করে। ফলে একটি রানওয়ে থাকলেই বিমানবন্দর অকার্যকর হয়ে যায় এমন ধারণার বাস্তব ভিত্তি নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি রানওয়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজন আধুনিক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল, দ্রুত ট্যাক্সিওয়ে অপারেশন, দক্ষ গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, কার্যকর এপ্রোন ব্যবস্থাপনা এবং সময়নিষ্ঠ ফ্লাইট পরিচালনা। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে একই রানওয়ে দিয়েও অনেক বেশি উড়োজাহাজ পরিচালনা করা সম্ভব হয়।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও থার্ড টার্মিনাল চালুর ফলে যাত্রীসেবার সক্ষমতায় বড় পরিবর্তন আসবে। নতুন টার্মিনালে বাড়বে চেক-ইন কাউন্টার, ইমিগ্রেশন ডেস্ক, বোর্ডিং গেট, ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং সুবিধা এবং যাত্রীসেবার সামগ্রিক সক্ষমতা। ফলে একই সময়ে আরও বেশি আন্তর্জাতিক যাত্রীকে দ্রুত সেবা দেওয়া সম্ভব হবে এবং যাত্রী ভোগান্তিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

তবে এভিয়েশন বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে দ্বিতীয় রানওয়ের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ও যাত্রীসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলে বর্তমান একমাত্র রানওয়েই বিমানবন্দরের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতায় পরিণত হতে পারে। তখন ব্যস্ত সময়ে উড়োজাহাজের অপেক্ষার সময় বাড়বে, নতুন ফ্লাইট যুক্ত করা কঠিন হবে এবং টার্মিনালের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানোও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতীয় রানওয়ে ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। তবে দ্বিতীয় রানওয়ে না থাকায় থার্ড টার্মিনাল সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে যাবে এমন দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং আধুনিক টার্মিনাল, উন্নত প্রযুক্তি এবং দক্ষ পরিচালনার মাধ্যমে বর্তমান অবকাঠামো দিয়েই যাত্রীসেবায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের পরবর্তী বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত বর্তমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় দ্বিতীয় রানওয়ের পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে নেওয়া। তবেই থার্ড টার্মিনালের পূর্ণ সম্ভাবনা দীর্ঘমেয়াদে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।

  • থার্ড টার্মিনাল
  • শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর