১ যুগেই দেশের সবচেয়ে বড় বহরের মালিক ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ ঘন্টা আগে

মাত্র দুটি উড়োজাহাজ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। এক যুগের ব্যবধানে সেই প্রতিষ্ঠানই এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি বিমান সংস্থায় পরিণত হয়েছে। বহর সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক রুট বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনার মাধ্যমে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে এয়ারলাইন্সটি।

২০১৪ সালের ১৭ জুলাই ঢাকা-যশোর রুটে দুটি ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ উড়োজাহাজ দিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। অভ্যন্তরীণ বাজারে সফলতার পর ২০১৬ সালে ঢাকা-কাঠমান্ডু রুটে ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।

বর্তমানে ইউএস-বাংলার বহরে রয়েছে ২৫টি আধুনিক উড়োজাহাজ। এর মধ্যে রয়েছে বোয়িং ৭৩৭-৮০০, এয়ারবাস এ৩৩০-৩০০ এবং এটিআর ৭২-৬০০। দেশের ছয়টি অভ্যন্তরীণ গন্তব্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এয়ারলাইন্সটি এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের ১৪টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ শহরে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

বাংলাদেশি বেসরকারি এয়ারলাইন্স হিসেবে সরাসরি গুয়াংজু এবং মালদ্বীপে ফ্লাইট পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকও অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে ইউএস-বাংলার পথচলা সবসময় সহজ ছিল না। ২০১৮ সালে নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংঘটিত মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা এয়ারলাইন্সটির জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে। পরবর্তীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মানের পরিচালন কাঠামো এবং সেফটি স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করে।

পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএটিএ) সদস্যপদ লাভ এবং আইওএসএ সেফটি সার্টিফিকেশন অর্জনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণে সক্ষমতা প্রদর্শন করে ইউএস-বাংলা। একই সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে উচ্চ অন-টাইম পারফরম্যান্স বজায় রাখাও যাত্রীদের আস্থা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এয়ারলাইন্সটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। ২০২৭ সালের মধ্যে বহরে আরও ২১টি নতুন বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যে যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ দশমিক ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ইউএস-বাংলার মোট উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ৪৬টিতে, যা বাংলাদেশের বেসরকারি এভিয়েশন ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বহরগুলোর একটি হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক এভিয়েশন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। পাশাপাশি পাইলট, কেবিন ক্রু, প্রকৌশলী ও গ্রাউন্ড স্টাফসহ বিভিন্ন খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইউরোপের লন্ডন ও রোমে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউএস-বাংলা। ভবিষ্যতে উত্তর আমেরিকার নিউইয়র্ক ও টরন্টোতেও ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউএস-বাংলার এই সম্প্রসারণ পরিকল্পনা শুধু একটি এয়ারলাইন্সের ব্যবসায়িক সাফল্যের গল্প নয়; বরং এটি বাংলাদেশের বেসরকারি এভিয়েশন খাতের সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রতিযোগিতা করার আত্মবিশ্বাসেরও প্রতিফলন।

  • ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স