ঢাকা-রোম ফ্লাইট বাড়ানো ও পর্যটন উন্নয়নে বাংলাদেশ-ইতালির আলোচনা

লেখক: রাইসুল ইসলাম
প্রকাশ: ১৩ ঘন্টা আগে

বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উন্নয়ন, আকাশপথে যোগাযোগ সম্প্রসারণ এবং এভিয়েশন খাতে ইতালীয় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের বিষয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও ইতালি।

বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো এবং দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন ফেদেরিকো জাম্পারেল্লি। মন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচল, উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত এবং পর্যটন খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সপ্তাহে ছয়টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ঢাকা-রোম রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে ইতালি সরকারের আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী জানান, নতুন উড়োজাহাজ সংযোজনের পর ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হবে। এতে ইউরোপে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসীর যাতায়াত আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে ইতালীয় বিনিয়োগের সম্ভাবনাও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল (এমআরও) সুবিধা গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে ইতালির সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এজ কোম্পানি (Edge Company), আতিটেক এস.পি.এ. (Atitech S.p.A.) এবং গিলারদোনির (Gilardoni) অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা কাজে লাগানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।

পর্যটন খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও উদ্বোধনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য কক্সবাজারসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যে যাতায়াত সহজ করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য ও উন্নত ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে বিশেষ ‘রেড জোন’ গঠনের বিষয়টিও উঠে আসে।

বৈঠকে বাংলাদেশে ইতালীয় পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরে দুই দেশের মধ্যে পর্যটন বিনিময় সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। পর্যটন আকর্ষণ বৃদ্ধি, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এ খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে উভয় পক্ষ মত প্রকাশ করে।

এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে পর্যটন উন্নয়নে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি এবং পর্যটন খাতের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও ইতালির বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বিমান চলাচল, এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগ এবং পর্যটন উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • ইতালি
  • বিদেশযাত্রা
  • বিমান
  • সর্বশেষ