২০২৮ সালের মধ্যে এয়ারবাসের অন্তত একটি উড়োজাহাজ চান মন্ত্রী

লেখক: শাহানুর রহমান মুকুট
প্রকাশ: ১০ ঘন্টা আগে

বিমানের বহর সংকট কাটাতে ২০২৮ সালের মধ্যে এয়ারবাসের অন্তত একটি উড়োজাহাজ সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত।

বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এ অনুরোধ জানান তিনি।

এয়ারবাসের আঞ্চলিক প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে উড়োজাহাজের স্বল্পতার কারণে যাত্রীদের চাহিদা পূরণে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এ কারণে ২০২৮ সালের মধ্যে অন্তত একটি উড়োজাহাজ সরবরাহের অনুরোধ জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য আকাশ যোগাযোগের চাহিদাও বাড়ছে। ফলে যাত্রীদের চাহিদা পূরণ এবং নতুন রুট পরিচালনায় বিমানের বহর সম্প্রসারণ জরুরি।

বর্তমানে দেশের মোট আকাশযাত্রীদের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বাকি ৮০ শতাংশ যাত্রী অন্যান্য এয়ারলাইনস পরিবহন করছে বলে জানান তিনি।

এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তিকে বিমানের নিজস্ব বহর সম্প্রসারণ এবং একটি টেকসই মিশ্র বহর গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন রাশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বাজারের চাহিদা ও রুটের প্রয়োজন অনুযায়ী বিমান আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট। আমরা বিমানকে বিশ্বের অন্যতম সেরা এয়ারলাইনস হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ ক্ষেত্রে এয়ারবাস ও বোয়িং—দুই ধরনের উড়োজাহাজই থাকবে। এর জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত নেটওয়ার্কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বহর, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং কার্যকর পরিচালনব্যবস্থা।’

শুধু নতুন উড়োজাহাজ কিনলেই বিমানকে ভালো এয়ারলাইনস হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব নয় উল্লেখ করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাদারত্ব ও সেবার মান বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। বিমানের ভবিষ্যৎ কর্মীদের পেশাদারত্ব, শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার ওপর নির্ভর করবে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিমানের প্রতিটি সেবা, প্রতিটি ফ্লাইট এবং প্রতিটি সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে।

অনুষ্ঠানে পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তা প্রসঙ্গেও কথা বলেন রাশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, ২০১৭ সালের জুন থেকে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যাওয়া পণ্য ও ডাককে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ওই সময় উত্থাপিত উদ্বেগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। নিষেধাজ্ঞা দ্রুত প্রত্যাহারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতা চান তিনি।

মন্ত্রী জানান, যুক্তরাজ্যের পরিবহন বিভাগের ২০২৬ সালের ১৭ জুলাইয়ের মূল্যায়নে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৮ শতাংশ এবং ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৪ শতাংশ নম্বর পেয়েছে।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কায়জার সোহেল আহমেদ, বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বক্তব্য দেন।

এ ছাড়া এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমেয়ার, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটজ, ফরাসি রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে, স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিস্তিয়াগা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, এ চুক্তির ফলে বিমানের পরিচালন সক্ষমতা বাড়বে, কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য এগিয়ে যাবে। একই সঙ্গে এ চুক্তিকে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন তারা।

  • travel based first digital media
  • এয়ারবাস
  • বিমান বাংলাদেশে এয়ারলাইন্স
  • ভ্রমণ বিষয়ক প্রথম ডিজিটাল মিডিয়া