পাসপোর্ট হাতে নিয়ে যাত্রী বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই তাঁর তথ্য যাচাই করবে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক ডেটাবেজ ও বাংলাদেশের নিজস্ব নিরাপত্তা তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে শনাক্ত করা হবে সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি। দেশের আন্তর্জাতিক প্রবেশ ও বহির্গমন পয়েন্টগুলোকে একটি সমন্বিত স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার আওতায় আনতে এমনই একটি উদ্যোগ বিবেচনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত ২ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রাথমিক প্রস্তাব জমা দেয় মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি। এরপর গত ৯ সেপ্টেম্বর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে প্রস্তাবটি এগিয়ে নেওয়ার প্রাথমিক অনুমোদন দেয়। এর ধারাবাহিকতায় ৩০ সেপ্টেম্বর একটি স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে গত ৪ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে আগামী ২২ অক্টোবরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, উড়োজাহাজ গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার আগেই যাত্রীদের বুকিং-সংক্রান্ত তথ্য ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে যাবে। পরে এসব তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইন্টারপোলের বৈশ্বিক ডেটাবেজ এবং বাংলাদেশের নিজস্ব নিরাপত্তা ওয়াচলিস্টের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। কোনো যাত্রীর তথ্যে অপরাধমূলক রেকর্ড বা সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকির ইঙ্গিত পাওয়া গেলে, বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আগেভাগেই প্রস্তুতি নিতে পারবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রযুক্তিগত কাঠামোটিতে অ্যাডভান্স প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন (এপিআই), প্যাসেঞ্জার নেম রেকর্ড (পিএনআর), ই-ভিসা এবং ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশনের মতো সেবা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি আঙুলের ছাপ ও মুখমণ্ডল শনাক্তকরণের মতো বায়োমেট্রিক প্রযুক্তির মাধ্যমে যাত্রীর পরিচয় যাচাইয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদান ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে যাত্রী যাচাইয়ের পুরো প্রক্রিয়াকে আরও সমন্বিত ও কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত সেবাগুলোর সম্ভাব্য ফি ও সার্ভিস চার্জ পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাত সদস্যের একটি কমিটিকে। অন্যদিকে, চুক্তির শর্ত, কাজের পরিধি, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা, ঝুঁকি ভাগাভাগি এবং জবাবদিহির বিষয়গুলো মূল্যায়ন করবে নয় সদস্যের আরেকটি কমিটি। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা এবং তথ্যের মালিকানা-সংক্রান্ত বিষয়ও পর্যালোচনা করা হবে।
তবে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় এই প্রযুক্তি চালুর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মার্কিন প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কোনো চূড়ান্ত চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়নি। প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হবে কি না, কী শর্তে চুক্তি সম্পাদিত হবে এবং কবে নাগাদ এই ব্যবস্থা চালু হতে পারে তা নির্ভর করছে কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়ন এবং পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর।
