নতুন চালুর তালিকায় আছে কুমিল্লা বিমানবন্দরের নাম

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ সপ্তাহ আগে

দেশের আঞ্চলিক এভিয়েশন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কুমিল্লা বিমানবন্দর-কে পুনরায় চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা ইতোমধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) মাস্টারপ্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এতে কুমিল্লা ও আশপাশের অঞ্চলের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দীর্ঘ সময় ধরে কোনো যাত্রীবাহী ফ্লাইট না চললেও বিমানবন্দরটি পুরোপুরি অচল ছিল না। গুরুত্বপূর্ণ আকাশপথে অবস্থানের কারণে এখানে স্থাপিত ভিওআর-ডিএমই নেভিগেশনাল সিস্টেম ব্যবহার করে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। এই সেবার মাধ্যমেই প্রতি মাসে প্রায় ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুমিল্লা অঞ্চলের শক্তিশালী অর্থনীতি ও ক্রমবর্ধমান চাহিদাই বিমানবন্দরটি চালুর অন্যতম প্রধান কারণ। বিশেষ করে কুমিল্লা ইপিজেড-কে কেন্দ্র করে বিদেশি বিনিয়োগকারী, বায়ার ও কর্মকর্তাদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। সড়কপথে দীর্ঘ যাত্রা ও যানজট এড়াতে দীর্ঘদিন ধরেই আকাশপথ চালুর দাবি জানানো হচ্ছিল।

এছাড়া বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চল দেশের অন্যতম প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায়, প্রবাসী ও তাদের পরিবারের যাতায়াত সহজ করতে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালুর প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বিমানবন্দর চালু হলে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং পর্যটন খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তবে পূর্ণাঙ্গভাবে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর আগে বেশ কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে রানওয়ের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি, কার্পেটিং সংস্কার, আধুনিক টার্মিনাল ভবন নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক মানের ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন। পাশাপাশি বিমানবন্দরের আশপাশে গড়ে ওঠা কিছু উঁচু স্থাপনার কারণে সৃষ্ট কারিগরি প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সমীক্ষা চলছে।

প্রাথমিকভাবে ছোট আকারের উড়োজাহাজ যেমন এটিআর বা ড্যাশ-৮ দিয়ে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তীতে চাহিদা ও সক্ষমতা অনুযায়ী স্বল্প দূরত্বের আন্তর্জাতিক রুটেও ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

  • কুমিল্লা বিমানবন্দর