বাংলাদেশে পাইলট হওয়ার স্বপ্ন অনেক তরুণের থাকলেও উচ্চ ব্যয়ের কারণে সেই স্বপ্ন অনেক সময় অধরাই থেকে যায়। দেশে একজন শিক্ষার্থীকে পাইলট হতে সাধারণত ৫০ লাখ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হয় এবং পুরো প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে সময় লাগে কমপক্ষে তিন বছর। ফলে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর পাইলট হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয় না।
এমন পরিস্থিতিতে মেধাবী তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ নিয়ে এসেছে দেশের অন্যতম বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। ‘স্টুডেন্ট পাইলট প্রোগ্রাম’-এর আওতায় ট্রেইনি স্টুডেন্ট পাইলট পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। নির্বাচিত প্রার্থীদের সম্পূর্ণ বিনা খরচে পাইলট প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের নির্ধারিত অনলাইন লিংকের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রার্থীরা ইউএস-বাংলার ফ্লাইট অপারেশনস বিভাগে ফুল-টাইম ট্রেইনি স্টুডেন্ট পাইলট হিসেবে যোগদানের সুযোগ পাবেন। প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের বিদেশে পাঠানো হবে এবং পুরো ফ্লাইট প্রশিক্ষণের ব্যয় বহন করবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে এয়ারলাইন্সটিতেই ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ পাবেন তারা।
দেশে এভিয়েশন খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও সেই অনুপাতে পাইলটের সংখ্যা বাড়ছে না। স্থানীয় ফ্লাইং স্কুলগুলো থেকে প্রতিবছর যে সংখ্যক পাইলট তৈরি হচ্ছে তা ক্রমবর্ধমান চাহিদার তুলনায় কম। এই সংকট কাটাতে এবং ভবিষ্যৎ ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে।
যোগ্যতার ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে অবশ্যই জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং অন্য কোনো দেশের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া যাবে না। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় জিপিএ ৫.০০ থাকতে হবে। ইংরেজিতে ন্যূনতম জিপিএ ৪.০০ থাকতে হবে। পদার্থবিজ্ঞান, সাধারণ গণিত ও উচ্চতর গণিতের মধ্যে অন্তত দুটি বিষয়ে জিপিএ ৫.০০ এবং একটি বিষয়ে অন্তত জিপিএ ৪.০০ থাকতে হবে। এইচএসসিতে পদার্থবিজ্ঞান বা গণিতের যেকোনো একটিতে অবশ্যই জিপিএ ৫.০০ থাকতে হবে।
ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ও-লেভেলে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানসহ অন্তত পাঁচটি বিষয়ে ন্যূনতম ‘এ’ গ্রেড এবং এ-লেভেলে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানে অন্তত ‘বি’ গ্রেড থাকতে হবে। কোনো ধরনের জিইডি সনদ গ্রহণযোগ্য হবে না।
প্রার্থীদের বয়স ১৭ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। শারীরিক যোগ্যতার ক্ষেত্রে পুরুষ প্রার্থীদের ন্যূনতম উচ্চতা ১৬৮ সেন্টিমিটার এবং নারী প্রার্থীদের ১৬৪ সেন্টিমিটার হতে হবে। পাশাপাশি উভয় চোখে ৬/৬ দৃষ্টিশক্তি, স্বাভাবিক রঙ শনাক্ত করার ক্ষমতা এবং ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকা আবশ্যক। ধূমপান ও মাদকমুক্ত হতে হবে এবং কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা যাবে না।
নির্বাচিত প্রার্থীদের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) থেকে ক্লাস–১ মেডিকেল সনদ অর্জনের উপযোগী হতে হবে। প্রাথমিকভাবে বাছাইকৃত প্রার্থীদের ঢাকার উত্তরায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের কার্যালয়ে স্পট অ্যাসেসমেন্টের জন্য ডাকা হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের এই উদ্যোগ দেশের মেধাবী কিন্তু আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে। ব্যয়বহুল প্রশিক্ষণের কারণে যারা এতদিন পাইলট হওয়ার সুযোগ পেতেন না, তাদের জন্য এই কর্মসূচি এভিয়েশন খাতে ক্যারিয়ার গড়ার এক বড় সুযোগ তৈরি করেছে।
