পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সেন্ট মার্টিনকে চারটি জোনে বিভক্ত করে একটি খসড়া মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন সিইজিআইএস প্রণীত এ পরিকল্পনা সম্প্রতি রাজধানীতে আয়োজিত এক কর্মশালায় উপস্থাপন করা হয়।
খসড়া মহাপরিকল্পনায় চারটি প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে,যার মধ্যে বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার, পর্যটন নিয়ন্ত্রণ, সামুদ্রিক সম্পদ ও স্থানীয় জীবিকা সুরক্ষা এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়ন। এতে সেন্ট মার্টিনে জেনারেটরের পরিবর্তে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের সুপারিশ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্বীপটিকে চারটি জোনে ভাগ করা হবে। জোন গুল হচ্ছে –
জেনারেল ইউজ জোন: এ এলাকায় পর্যটনসহ সাধারণ অর্থনৈতিক কার্যক্রম চলবে। সব হোটেল ও রিসোর্টকে এই জোনের আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে।
ম্যানেজড রিসোর্স জোন: কচ্ছপের প্রজনন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত এই জোনে পর্যটকরা দিনে ভ্রমণ করতে পারবেন, তবে রাতযাপন নিষিদ্ধ থাকবে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এখানকার প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করতে পারবেন না।
সাসটেইনেবল ইউজ জোন: বুশল্যান্ড, লেগুন ও ম্যানগ্রোভ বনসমৃদ্ধ এ এলাকায় স্থানীয় জনগোষ্ঠী সীমিত ও নিয়ন্ত্রিতভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করতে পারবে। পর্যটকদের জন্য দিনভিত্তিক প্রবেশের অনুমতি থাকবে, কিন্তু রাতযাপন করা যাবে না।
রেস্ট্রিক্টেড জোন: জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে এই এলাকায় কোনো ধরনের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
এবিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আট হাজার মানুষের দ্বীপে প্রতিদিন যদি ১০ হাজার পর্যটক যান, তাহলে তা স্থানীয় জীবন ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে। তাই সেন্ট মার্টিনে পর্যটন হবে নিয়ন্ত্রিত ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেন্দ্রিক।
এছাড়াও তিনি জানান, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার ফলে দ্বীপের বাস্তুতন্ত্র ইতোমধ্যে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে।
খসড়া মহাপরিকল্পনায় পর্যটনের চেয়ে সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, সেন্ট মার্টিন ও পর্যটন কখনোই সমার্থক হতে পারে না। হারিয়ে যাওয়া জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
