সংকটেও চালু করা যাচ্ছেনা থার্ড টার্মিনালের কার্গো ভিলেজ

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

বাংলাদেশের চারটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যে দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পুরনো কার্গো ভিলেজ বছরে প্রায় ২.৫ লাখ টন কার্গো হ্যান্ডলিং করতে সক্ষম ছিল। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৮০০ টন পণ্য এখান থেকে আমদানি-রপ্তানি হতো। কিন্তু সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এই সক্ষমতাকে নামিয়ে এনেছে শূন্যের কোঠায় এবং দেশের রপ্তানি গতিকে প্রভাবিত করছে।

কার্গো টার্মিনাল বা কার্গো ভিলেজ হলো বিমানবন্দরের সেই বিশেষায়িত এলাকা যেখানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পণ্যগুলো প্রক্রিয়াজাত করা হয়। রপ্তানি পণ্য সংরক্ষণ, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স এবং নিরাপত্তা স্ক্যানিংসহ সকল আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয় এখানে।

দেশের আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম বাড়াতে নতুন থার্ড টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে একটি আধুনিক এবং আন্তর্জাতিক মানের কার্গো টার্মিনাল। ধারণা করা হচ্ছে এটি চালু হলে দেশের কার্গো হ্যান্ডলিং ক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে পৌঁছাবে ৫ লাখ টনে । স্বয়ংক্রিয় হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা, ডিজিটাল মনিটরিং এবং উন্নত নিরাপত্তা প্রযুক্তি বাংলাদেশের বাণিজ্যের গতি ও দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তবে অগ্নিকাণ্ডের পরও এই নতুন কার্গো টার্মিনালটি ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। নবনির্মিত ভবনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ -বেবিচকের মধ্যে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার বিল সমন্বয় নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিরোধ। এই আর্থিক জটিলতার কারণে এখন পর্যন্ত টার্মিনালটি বেবিচকের কাছে হস্তান্তর করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এই বিশাল অঙ্কের বিল সমন্বয় না হওয়া পর্যন্ত ভবনটি বেবিচকের কাছে হস্তান্তর করতে রাজি নয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এর ফলে প্রায় দুই হাজার টন আমদানি পণ্য খোলা আকাশের নিচে পড়ে রয়েছে, আর কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অত্যাধুনিক এই টার্মিনালটি ব্যবহারের অপেক্ষায় তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘসূত্রতা ও আর্থিক জটিলতার এই পরিস্থিতি দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।

দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের এই সংকট দ্রুত নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দিকে তাকিয়ে আছে পুরো দেশ।

  • থার্ড টার্মিনাল কার্গো ভিলেজ
  • বিমানবন্দরে অগ্নিকান্ড