৫ আগস্টের পরে গেলো ১১ মাসে দেশের বেসামরিক বিমান খাতে সূচিত হয়েছে এক নতুন যুগের। যাত্রীসেবা, অবকাঠামো, পরিবেশ, আন্তর্জাতিক সংযোগ ও মানবিক কার্যক্রমসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্ব এনেছে দৃশ্যমান ও ইতিবাচক পরিবর্তন।
যাত্রীসুবিধা বাড়াতে নেওয়া হয়েছে একাধিক কার্যকর উদ্যোগ। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টেলিফোন বুথগুলো পুনরায় সচল করা, প্রবাসীদের জন্য ‘কল্যাণ লাউঞ্জ’ চালু এবং আধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ওয়েটিং লাউঞ্জ স্থাপন যাত্রীদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে করেছে আরও আরামদায়ক ও সন্তোষজনক।
তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে, যা দেশের বিমান চলাচলে এক নতুন মাত্রা যুক্ত করবে। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও তার আশপাশে ‘নীরব এলাকা’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি, পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে বিমানবন্দর এলাকায় সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
মাঙ্কিপক্স প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, আইকাও নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকাসহ চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দরে বোমা সদৃশ বস্তু শনাক্তকরণ ও অগ্নিনির্বাপণ মহড়া নিয়মিতভাবে সম্পন্ন করে বিমান নিরাপত্তার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে।
ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হওয়ায় নতুন রুটে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ চালু হয়েছে। সিলেট থেকে ইউরোপে পুনরায় কার্গো রপ্তানি চালু হওয়া এবং চট্টগ্রাম থেকে নতুন কার্গো ফ্লাইটের সূচনা দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
ঘন কুয়াশা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নত প্রযুক্তির আইএলএস-২ (Instrument Landing System) স্থাপন করা হয়েছে, যা ফ্লাইট ডাইভার্ট কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে বগুড়া বিমানবন্দর পুনরায় চালুর লক্ষ্যে প্রথম পর্যায়ের কাজ প্রায় সম্পন্ন। সৈয়দপুর ও কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।
সম্প্রতি বিমানবন্দরে স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া, সিভিল এভিয়েশন একাডেমি ICAO Trainair Plus Gold Membership অর্জনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন ও বৈশ্বিক স্বীকৃতির ক্ষেত্রে।আরও এক ধাপ এগিয়েছে বেবিচক।
