বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্ট(ডিএফটি) কর্তৃক পরিচালিত বিমানবন্দর মূল্যায়নে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকা সামগ্রিক মূল্যায়নে ৯৩% এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা (কার্গো) মূল্যায়নে ১০০% নম্বর অর্জন করেছে। পাশাপাশি, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সিলেট সামগ্রিকভাবে ৯৪% এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা (কার্গো) মূল্যায়নে ১০০% নম্বর পেয়েছে। ডিএফটি মূল্যায়ন দল বেবিচকের প্রস্তুতি, কার্যক্রম এবং নিরাপত্তা মানকে অত্যন্ত সন্তোষজনক হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই সাফল্য দেশের বিমানসেবার মান উন্নয়নে একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রবিবার (১২ অক্টাবর) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তপক্ষ-বেবিচকের জনসংযোগ দপ্তরের সহকারি পরিচালক মুহাম্মদ কাওছার মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বেবিচক জানায়, যুক্তরাজ্য সরকারের ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্ট পরিচালিত বিমানবন্দর মূল্যায়ন হলো একটি আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা যাচাই ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদেশি বিমানবন্দরগুলিতে যাত্রী ও কার্গো নিরাপত্তা মানদণ্ড পরীক্ষা করা হয় এবং যুক্তরাজ্যের চাওয়া অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলোর কার্যকারিতা পর্যালোচনা করা হয়। ডিএফটি অনুমোদিত ইন্সপেক্টর ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এই পরিদর্শনগুলো পরিচালনা করেন । তাঁরা সরেজমিনে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, নীতিমালা পরীক্ষা এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ব্যবস্থা যাচাই করেন।
যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে এই বিমানবন্দর মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৭ সালে। পরবর্তীতে, অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো যাচাই করার জন্য ডিএফটি পরিদর্শক দল নিয়মিতভাবে এই মূল্যায়ন অব্যাহত রেখেছে।
বেবিচক বলছে, ডিএফটি থেকে প্রাপ্ত উঁচু মূল্যায়ন বাংলাদেশের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার সক্ষমতা ও দৃঢ়তার প্রতিফলন হিসেবে মূল্যায়িত হচ্ছে। এটি জাতীয় নিরাপত্তার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বেবিচক আরও জানায়, মূল্যায়নটি বিদেশি নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও এয়ারলাইনগুলোকে আশ্বস্ত করে যে যাত্রী ও কার্গো ব্যবস্থাপনা টেকসই এবং আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে। উল্লেখযোগ্য, ২০১৬ সালে কার্গো স্ক্রিনিং নিয়ে উদ্বেগের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য সরাসরি ঢাকাগামী কার্গো পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি কার্গোকে তৃতীয় দেশে অতিরিক্ত নিরাপত্তা স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে পাঠাতে হতো, যা রপ্তানিকারকদের জন্য বিলম্ব ও অতিরিক্ত খরচ সৃষ্টি করেছিল।
পরবর্তীতে, বেবিচক ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এই বিধিনিষেধের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কার্যক্রমে উন্নয়ন ঘটায়। ২০১৭ সাল থেকে এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন সিস্টেম (ইডিএস) এর মতো আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম যুক্ত করা হয় এবং এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন ডগ (ইডিডি) ইউনিট রপ্তানি কার্গো স্ক্রিনিং ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি বাংলাদেশের কার্গো অপারেশনে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বেবিচক আরও বলছে, তাঁরা ধারাবাহিকভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ এবং প্রক্রিয়াগুলোর উন্নয়ন করেছে, যা দেশের বিমান নিরাপত্তাকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে দিয়েছে। এই সফল মূল্যায়ন ভবিষ্যতে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঝুঁকি কমাবে এবং বিদেশে অতিরিক্ত নিরাপত্তা স্ক্রিনিং করার প্রয়োজন হ্রাস করবে। ফলে, এটি বাণিজ্যকে সহায়ক করবে, বিদেশি বিমান সংস্থা ও হ্যান্ডলার অংশীদারিত্বকে আকৃষ্ট করবে এবং বিদেশি বিনিয়োগকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে, যা সরাসরি জাতীয় অর্থনীতি ও উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সম্প্রতি বিমানবন্দর মূল্যায়নে প্রাপ্ত অসাধারণ সাফল্য বেবিচকের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা, বিমান নিরাপত্তা বিভাগের দৃঢ় নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং উভয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কার্যকর নিরাপত্তা, সম্মিলিত প্রচেষ্টা বাংলাদেশের বিমান নিরাপত্তার ধারাবাহিক উন্নতির প্রতি তাদের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন বলছে বেবিচক।
এই সাফল্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে দেশের বিমান নিরাপত্তাকে আরও উন্নত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে তাঁরা। সংস্থাটির দৃষ্টিভঙ্গি হলো, বাংলাদেশ শুধু বর্তমান অর্জন বজায় রাখবে না, বরং বৈশ্বিক বিমান নিরাপত্তার সর্বোচ্চ মান অর্জন করে বিশ্বের অন্যতম উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
