বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালক (প্রশাসন) পদে নিয়োগ পেয়েছেন মো. মিজানুর রশীদ। সম্প্রতি সংস্থাটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
১৯৯৮ সালে ট্রেইনি অফিসার হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে কর্মজীবন শুরু করেন মিজানুর রশীদ। এরপর দীর্ঘ প্রায় ২৪ বছর ধরে সংস্থার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। কর্মদক্ষতা, সততা ও পেশাগত অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৬ সালে তিনি জেনারেল ম্যানেজার পদে পদোন্নতি লাভ করেন।
পরবর্তীতে তিনি সংস্থার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করে আসছেন। তার অভিজ্ঞতা ও পেশাগত যোগ্যতার ভিত্তিতেই তাকে পরিচালক (প্রশাসন) পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি সেইসব কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন, যারা ন্যায্য পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন।
শিক্ষাজীবনে মিজানুর রশীদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ থেকে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি তিনি অর্থনীতিতে মাস্টার্স ডিগ্রিও সম্পন্ন করেন।
ফ্রান্স সরকারের বৃত্তি নিয়ে তিনি তুলুজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আকাশযান ব্যবস্থাপনা বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। সেখানে বিমান চলাচল ব্যবসা ও বাজার পরিকল্পনা বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এছাড়া ফ্রান্সের ইনস্টিটিউট অ্যারোনটিক এ স্পাসিয়ালের মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তিও অর্জন করেন তিনি।
এছাড়া আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিমান সংস্থার কাছ থেকে বিমান চলাচল ব্যবসা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে একাধিক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি দেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। গত পাঁচ বছর ধরে দেশের একমাত্র সরকার অনুমোদিত বিমান ও আকাশযান বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ প্রোগ্রামে শিক্ষকতা করছেন মিজানুর রশীদ।
বিমানের রাজস্ব ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তার নেতৃত্বে চালু হওয়া বেশ কয়েকটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনার ফলে সংস্থার আয়-ব্যয়ের হিসাব সময়মতো উপস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে। এর মাধ্যমে লাভজনক রুট নির্ধারণ এবং রাজস্ব বৃদ্ধিতেও সহায়তা মিলছে।
এছাড়া রাজস্ব বিভাগের অধীনে তিনি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় সেলস ও হিসাব নিরীক্ষা ব্যবস্থা চালু করেন। এতে টিকিট সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়ম প্রায় নির্মূল হয়েছে এবং ভুল বা কাল্পনিক বুকিংয়ের মতো প্রতারণামূলক কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে কোভিড সময়কাল থেকে বিভিন্ন এজেন্সি থেকে প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
বিমান কর্তৃপক্ষ আশা করছে, প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের দায়িত্বে থেকে মিজানুর রশীদ তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার মাধ্যমে সংস্থার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও ফলপ্রসূ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
