দেশের আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণে বন্ধ থাকা ছয়টি বিমানবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বর্তমানে দেশে আটটি বেসামরিক বিমানবন্দর সচল থাকলেও বগুড়া, ঈশ্বরদী, কুমিল্লা, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও ও শমশেরনগর বিমানবন্দর দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এগুলো পর্যায়ক্রমে চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আপাতত নতুন কোনো বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা নেই। ফলে বাগেরহাটের প্রস্তাবিত খানজাহান আলী বিমানবন্দর প্রকল্প স্থগিত থাকছে। সরকারের লক্ষ্য বিদ্যমান অবকাঠামো সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করে দ্রুত ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করা।
অগ্রাধিকারের তালিকায় প্রথমে রয়েছে বগুড়া এয়ারফিল্ড। প্রথম ধাপের সংস্কার কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে। ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়সহ উত্তরাঞ্চলের পর্যটন ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিবেচনায় বগুড়াকে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সেখানে সামরিক ড্রোন উৎপাদন ও বিমানঘাঁটির অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যা কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় অগ্রাধিকার পেয়েছে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর। এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৯ হাজার ৮৭১ কোটি টাকার ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। রানওয়ে, টারম্যাক ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) মানদণ্ড অনুযায়ী রানওয়ে সম্প্রসারণ ও পুনর্নির্মাণ করা হলে বড় ধরনের যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ পরিচালনা সম্ভব হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে অন্তত চার বছর সময় লাগতে পারে।
তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ঈশ্বরদী বিমানবন্দর, যা ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সচল ছিল এবং ২০১৪ সালেও সীমিত পরিসরে ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে এ অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। নিরাপত্তা অবকাঠামো উন্নয়ন ও রানওয়ে সম্প্রসারণ করা হলে দ্রুত ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।
কুমিল্লা বিমানবন্দরও সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে। শিল্পায়ন ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা বিবেচনায় এ বিমানবন্দর চালু হলে ব্যবসায়িক যোগাযোগ সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
একসময়ের জৌলুসপূর্ণ লালমনিরহাট বিমানঘাঁটিও পুনরায় সক্রিয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিস্তৃত অবকাঠামো ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এটি উত্তরাঞ্চলীয় আঞ্চলিক যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সিলেটের শমশেরনগর এয়ারফিল্ড বর্তমানে বিমানবাহিনীর ব্যবহারে থাকলেও বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদন রয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন হলে এটি আঞ্চলিক রুটে যুক্ত হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বন্ধ থাকা বিমানবন্দরগুলো চালু হলে অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল আরও গতিশীল হবে, উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিনিয়োগ ও পর্যটন বাড়বে এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। সরকারের এই উদ্যোগকে অবকাঠামো উন্নয়ন ও আঞ্চলিক অর্থনীতিকে সক্রিয় করার কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
