হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্য এক প্রবাসীর লাগেজ চুরির চেষ্টার অভিযোগে নাসিমা নামের এক নারীকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, পোল্যান্ড থেকে দেশে ফিরছিলেন এক প্রবাসী বাংলাদেশি। পেশায় তিনি একজন শেফ। পরিবারের সদস্যদের জন্য ইউরোপ থেকে কেনা বিভিন্ন উপহার, স্যুভেনির এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিল তাঁর রঙিন লাগেজে।
অন্যদিকে, সৌদি আরবের আল কাসিম শহরে একটি হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত নাসিমা চার বছর পর দেশে ফিরছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিল একটি সবুজাভ রঙের লাগেজ।
দুই যাত্রীরই ট্রানজিট শেষে এয়ার এরাবিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। তবে ট্রানজিটে ফ্লাইট পরিবর্তনের সময় পোল্যান্ড প্রবাসী ওই যাত্রীর লাগেজ বিমানে উঠলেও তিনি নিজে নির্ধারিত ফ্লাইটে উঠতে পারেননি। ফলে তাঁকে পরবর্তী ফ্লাইটে লাগেজ ছাড়াই দেশে ফিরতে হয়।
এদিকে, বিমানবন্দরে পৌঁছে নিজের লাগেজ সংগ্রহের পর নাসিমা অন্য যাত্রীর পড়ে থাকা রঙিন লাগেজটি নিজের ট্রলিতে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বিষয়টি এয়ারলাইন্সের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নজরে এলে তাঁকে আটকানো হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাসিমা লাগেজটি নিজের বলে দাবি করেন। তবে লাগেজের ট্যাগ, ব্র্যান্ড, কেনার স্থান ও দাম সম্পর্কে সন্তোষজনক তথ্য দিতে ব্যর্থ হন তিনি। পরবর্তী সময়ে সিসিটিভি ফুটেজ এবং বিমানবন্দরে তাঁর আনা সবুজাভ লাগেজের তথ্য দেখানো হলে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন।
পরে এয়ার এরাবিয়া এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা দিদারসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় লাগেজটির প্রকৃত মালিককে শনাক্ত করা হয়। উদ্ধার হওয়া লাগেজটি পোল্যান্ড প্রবাসী ওই যাত্রীর কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। লাগেজ ফিরে পেয়ে তিনি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ ঘটনায় অন্য যাত্রীর গুরুত্বপূর্ণ মালামাল ও নথিপত্র চুরির চেষ্টার অপরাধে দোষ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে অভিযুক্ত নাসিমাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান তাঁর ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানান।
এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে যাত্রীদের লাগেজ সংগ্রহের পর লাগেজের ট্যাগের সঙ্গে বোর্ডিং পাসে থাকা ট্যাগের অংশ মিলিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি লাগেজসংক্রান্ত কোনো সমস্যা হলে বিমানবন্দরের লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড ডেস্ক অথবা সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তথ্য, অভিযোগ ও পরামর্শ জানাতে ১৩৬০০ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। এ ছাড়া বিমানবন্দরে সেবা পেতে হয়রানির শিকার হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে ০১৩০৪০৫০৬০৩ নম্বরে (হোয়াটসঅ্যাপ) যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
