হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেরিতে আসা লাগেজ যাত্রীর নির্ধারিত বাসার ঠিকানায় পৌঁছে না দিয়ে মহাসড়কের একটি পয়েন্টে সরবরাহ করায় জেটলাইন সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি কুমিল্লার মুরাদনগরের এক প্রবাসীর দেরিতে আসা লাগেজ তাঁর দেওয়া বাসার ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হোম ডেলিভারির দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানটি সেখানে লাগেজ পৌঁছে দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। পরে যাত্রীকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ এলাকার মহাসড়কের একটি পয়েন্টে ডেকে নিয়ে লাগেজ সরবরাহ করা হয়।
ঘটনাটি জানার পর সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স ও ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানের কাছে তাৎক্ষণিক ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানায়, লাগেজ হোম ডেলিভারির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে ইতোমধ্যে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। অন্যদিকে, Jetlines Services Private Ltd-এর ব্যবস্থাপক যাত্রীর বাসার পরিবর্তে দূরবর্তী মহাসড়কের একটি পয়েন্টে লাগেজ সরবরাহের বিষয়টি স্বীকার করেন।
পরে বিমানবন্দর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রতিষ্ঠানটির দোষ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ ও আদায় করা হয়। জরিমানার অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় ভবিষ্যতে দেরিতে আসা লাগেজ যাত্রীর নির্ধারিত ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়ার পরিবর্তে কোনো সুবিধাজনক মহাসড়ক বা অন্য স্থানে সরবরাহ না করার বিষয়ে সব এয়ারলাইন্সকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।
দেরিতে লাগেজ এলে যাত্রীদের করণীয়
বিমানবন্দরে নির্ধারিত সময়ে লাগেজ না পেলে বিমানবন্দর ত্যাগের আগেই সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের ব্যাগেজ কাউন্টার বা লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড ডেস্কে গিয়ে Property Irregularity Report (PIR) ফরম পূরণ করতে হবে। এ সময় ফরমের কপি ও ট্র্যাকিং নম্বর সংগ্রহের পাশাপাশি সঠিক বাসার বা হোটেলের ঠিকানা দিতে হবে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পোস্টে জানানো হয়, দেরিতে আসা লাগেজ হোম ডেলিভারির পাশাপাশি যাত্রীকে তাৎক্ষণিকভাবে তিন হাজার টাকা দেওয়ার বিধান রয়েছে। এ ছাড়া বিমানযাত্রায় লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিধি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নতুন লাগেজ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ২১ দিনের মধ্যে হারানো লাগেজ ফেরত না পেলেও ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন যাত্রীরা।
যাত্রীদের হয়রানি, লাগেজ হোম ডেলিভারি না পাওয়া কিংবা অন্য কোনো ধরনের অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে বিমানবন্দরের হটলাইন ১৩৬০০ নম্বরে অভিযোগ জানানো যাবে। পাশাপাশি বিমানবন্দর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সরাসরি অথবা ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ করা যাবে। অভিযোগের জন্য যোগাযোগ নম্বর: ০১৩০৪০৫০৬০৩।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান তাঁর ফেসবুক পোস্টে এসব তথ্য তুলে ধরেন।
