বিমানবন্দরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা

লেখক: রাইসুল ইসলাম
প্রকাশ: ৭ ঘন্টা আগে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় যাত্রীদের ট্রলি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির অভিযোগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান তার ফেসবুক পোস্টে জানান, বিমানবন্দর এলাকায় ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের আগে গোপনে লোক পাঠিয়ে যাত্রীসেবা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর উপস্থিত সাক্ষী ও দোষ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়। জরিমানার অর্থ সরকারি কোডে জমা দেওয়া হয়েছে।

যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে বিমানবন্দরে চারজন এয়ারপোর্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। বিশেষ করে ট্রলি ও লাগেজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, যাত্রীদের ট্রলি সংকট কমাতে বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে ট্রলি এনে মেরামত করে প্রায় ৫০০টি ট্রলি নতুন করে ব্যবস্থাপনায় যুক্ত করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে আরও ১ হাজার ট্রলি সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।

ট্রলির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে গঠন করা হয়েছে বিশেষ টিম। পাশাপাশি শিফটভিত্তিক ট্রলির সংখ্যা ও অবস্থান পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রানওয়ে সংস্কারের কারণে রাতে কয়েক ঘণ্টা ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ থাকার পর পিক আওয়ারে একসঙ্গে একাধিক ফ্লাইট অবতরণ করলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যাত্রীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। অনেক সময় তখন বিদ্যমান ট্রলির সংখ্যার তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় ট্রলি সংগ্রহে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত প্রয়োজনীয়সংখ্যক ট্রলি সরবরাহের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

লাগেজ চুরি ও হয়রানির অভিযোগে ব্যবস্থা

বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ নিয়ে অভিযোগের ক্ষেত্রেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করে অভিযোগ জানানোর সুযোগ রয়েছে।

লাগেজ থেকে চুরি হয়েছে বলে সন্দেহ হলে কিংবা কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হলে বিমানবন্দরের দ্বিতীয় তলায় ১ নম্বর টার্মিনালের ১ নম্বর গেটসংলগ্ন এয়ারপোর্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ করা যাবে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টা পালাক্রমে একজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট যাত্রীদের অভিযোগ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দায়িত্ব পালন করেন।

অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। লাগেজ চুরির সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এরই মধ্যে এ ধরনের অপরাধে একাধিক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এক বছরে ৫২৪ জনের কারাদণ্ড

এয়ারপোর্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে চারজন এয়ারপোর্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বিভিন্ন অপরাধে মোট ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করেছেন। একই সময়ে ৫২৪ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব অভিযানের মাধ্যমে বিমানবন্দরে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি যাত্রীদের অধিকার সংরক্ষণে ভূমিকা রাখা সম্ভব হয়েছে।

যাত্রীর অনুপস্থিতিতে লাগেজ তল্লাশি নিয়ে উদ্যোগ

বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে শেষ মুহূর্তে যাত্রীর অনুপস্থিতিতে লাগেজ তল্লাশি এবং বিশেষ ধরনের তালা খুলে নিষিদ্ধ বা নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট সামগ্রী জব্দ করার ঘটনা ঘটে। এ ধরনের ক্ষেত্রে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যথাযথ নোটিশ না থাকায় অনেক সময় যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সিভিল এভিয়েশন অথরিটির কাছে সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

অতিরিক্ত যাত্রী চাপ

বছরে ৮০ লাখ যাত্রী সেবার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বিমানবন্দরটি বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ যাত্রী ব্যবহার করছেন। এর সঙ্গে যাত্রীদের স্বজন ও সহযোগী হিসেবে আরও প্রায় ২ কোটি মানুষের বিমানবন্দর এলাকায় আগমন ঘটে। অতিরিক্ত এই চাপের কারণে বিমানবন্দরে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও অপরাধের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এ অবস্থায় যাত্রীদের যেকোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা তথ্য কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

যেকোনো সমস্যায় যাত্রীদের বিমানবন্দর হটলাইন: ০৯৬১৪০১৩৬০০

এয়ারপোর্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হোয়াটসঅ্যাপ: +৮৮০১৩০৪০৫০৬০৩

উল্লেখিত জায়গায় যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

  • বিমানবন্দর
  • শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
  • সর্বশেষ
  • হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর