দেশের আকাশপথে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও কার্যকর বিমান চলাচল নিশ্চিত করতে দক্ষ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার (এটিসি) তৈরির লক্ষ্যে সিভিল এভিয়েশন একাডেমিতে শুরু হয়েছে এটিসি বেসিক কোর্স নম্বর-৩৬। রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ১০টায় ২৭ সপ্তাহব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কোর্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য (এটিএম) এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম।
উদ্বোধনী বক্তব্যে এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম বলেন, বিমান চলাচল ব্যবস্থায় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল একটি কার্যক্রম। প্রতিদিন আকাশপথে বিভিন্ন গন্তব্যে অসংখ্য উড়োজাহাজ চলাচল করে। এসব উড়োজাহাজের মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া এবং আকাশপথের সার্বিক ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনায় প্রশিক্ষিত এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, দেশের বিমান চলাচল খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। এ ধরনের প্রশিক্ষণ ভবিষ্যৎ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের পেশাগত দক্ষতা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রশিক্ষণার্থী ও অতিথিদের স্বাগত জানান সিভিল এভিয়েশন একাডেমির পরিচালক প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তী। তিনি বলেন, দেশের বিমান চলাচল ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও কার্যকর করতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল প্রয়োজন। প্রশিক্ষণার্থীদের আন্তরিকতা, শৃঙ্খলা ও পেশাগত দায়িত্ববোধের সঙ্গে প্রশিক্ষণ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বেবিচকের পরিচালক (এটিএম) মো. সামছুল হক। এ সময় সিভিল এভিয়েশন একাডেমি ও বেবিচকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এটিসি বেসিক কোর্স নম্বর-৩৬-এ মোট ১৪ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আটজন এবং বেবিচকের ছয়জন রয়েছেন। ২৭ সপ্তাহের এ প্রশিক্ষণে তারা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ও এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের বিভিন্ন বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করবেন।
বেবিচক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিমান চলাচলের পরিধি ও ব্যস্ততা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। তাই নিয়মিত ও মানসম্মত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরি দেশের ক্রমবর্ধমান বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার পাশাপাশি নিরাপদ আকাশপথ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
