সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে মানসম্মত ব্যবস্থাপনা ও টেকসই পর্যটন নিশ্চিত করতে ঢাকায় ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের (বিটিবি) উদ্যোগে ‘ওআইসি দেশগুলোতে ঐতিহ্যবাহী স্থানের সংরক্ষণে মান ও টেকসইতার সূচক উন্নয়ন এবং পরিচালনা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার’ শীর্ষক এ কর্মশালা ৭ ও ৮ অক্টোবর রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক পর্যটন উন্নয়নে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কমসেকের অর্থায়নে ‘পরিচালনা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদারের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্থান সংরক্ষণ’ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। ৫৭টি ওআইসি সদস্য দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচিত হয়।
কর্মশালায় ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও পর্যটন বিষয়ে ২৫ জন বিশেষজ্ঞ অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের ২১ জন এবং তুরস্ক, উজবেকিস্তান ও ইসলামিক দেশগুলোর পরিসংখ্যান, অর্থনৈতিক ও সামাজিক গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (সেসরিক) চারজন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি ছিলেন।
দুই দিনের কর্মশালায় ঐতিহ্যবাহী স্থান ব্যবস্থাপনার পরিবেশগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক বিবেচনায় নিয়ে মানদণ্ড ও টেকসইতার সূচক তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো, সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালনা ব্যবস্থা, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সুবিধা নিশ্চিতকরণ, দর্শনার্থী ব্যবস্থাপনা এবং ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা ও সুপারিশ করা হয়।
কর্মশালায় পাওয়া বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ ভবিষ্যতে প্রণীতব্য ‘ওআইসি গাইডেন্স ডকুমেন্ট অন হেরিটেজ সাইট প্রিজারভেশন’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কর্মশালার ফলাফল এবং পরবর্তী বিশেষজ্ঞ পরামর্শ সভার ভিত্তিতে ওই নির্দেশিকা তৈরি করা হবে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক আবু সালিম মাহমুদ-উল হাসান অংশগ্রহণকারী ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানান। কমসেক কাঠামোর আওতায় জ্ঞান বিনিময় ও সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগে বাংলাদেশ ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি জানান।
বিটিবি জানিয়েছে, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকা নিশ্চিত এবং পর্যটন খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে টেকসই ঐতিহ্য পর্যটন উন্নয়নে সংস্থাটি কাজ করে যাচ্ছে।
