থার্ড টার্মিনালের ব্যয় বাড়লো দেড় হাজার কোটি টাকা

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পে নতুন করে যুক্ত হয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকার আর্থিক চাপ। নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে টার্মিনাল বুঝে না নেওয়ায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তি বোর্ড।

গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত শুনানিতে মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির তিনজন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত বোর্ড উভয় পক্ষের দাবি ও পাল্টা দাবি পর্যালোচনা করে এই রায় দেয়। এর ফলে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই মেগা প্রকল্পের মোট ব্যয় আরও বৃদ্ধি পেল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শতভাগ নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও টার্মিনালটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণে বিলম্ব হওয়ায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম (এডিসি) অতিরিক্ত প্রায় দেড় বছর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে। চুক্তির বাইরে এ সময়ের জন্য এডিসি ৩ হাজার কোটি টাকা দাবি করলেও সিভিল এভিয়েশন দিতে রাজি ছিল সর্বোচ্চ ১ হাজার কোটি টাকা। এ নিয়ে বিরোধ চরমে পৌঁছালে বিষয়টি আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তি বোর্ডে গড়ায়।

এডিসি জাপানের মিতসুবিশি কর্পোরেশন ও ফুজিতা কর্পোরেশন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সি অ্যান্ড টি কর্পোরেশনের সমন্বয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়াম। কোভিড-১৯ মহামারী এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধজনিত বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের মধ্যেও তারা ২০২৪ সালের ২ জানুয়ারি নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে।

তবে নির্মাণ শেষে টার্মিনাল পরিচালনার জন্য নতুন অপারেটর নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রকল্পটি কার্যকরভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। কনসোর্টিয়ামের অভিযোগ, অপারেটর নিয়োগ না হওয়ায় অতিরিক্ত অর্থ ছাড়াই বিশাল স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণের দায়ভার তাদের বহন করতে হয়েছে, যা তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলেছে।

বিষয়টি নিয়ে কনসোর্টিয়ামের অংশীদার দেশগুলোর কূটনৈতিক পর্যায়েও তৎপরতা দেখা যায়। সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রদূতরা বকেয়া অর্থ পরিশোধের দাবিতে বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেন। সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তি বোর্ডে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়।

বোর্ডের রায় অনুযায়ী সিভিল এভিয়েশনকে ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। তবে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর জন্য কর্তৃপক্ষ ২৮ দিন সময় পাবে। আপত্তি নিষ্পত্তি না হলে বিষয়টি চূড়ান্ত সালিশি বোর্ডে গড়াবে, যার সিদ্ধান্ত উভয় পক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক হবে।

দক্ষ অপারেটর নিয়োগে জটিলতা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তহীনতা এবং ব্যয় বৃদ্ধির চাপ সব মিলিয়ে থার্ড টার্মিনাল প্রকল্প নতুন করে আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

  • থার্ড টার্মিনাল