যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে ইউরোপীয় অংশীদারদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই, একইভাবে ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় বাংলাদেশ প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব করবে। কোনো দেশকে খুশি করার জন্য নয়, দেশের প্রয়োজনেই বিভিন্ন চুক্তি করা হবে।
৭ অক্টোবর ঢাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও এয়ারবাসের মধ্যে উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমরা কী করছি, সেটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের বিষয়। আবার ইউরোপের সঙ্গে আমরা কী করছি, সেটিও যুক্তরাষ্ট্রের বিষয় নয়। তবে দেশের উন্নয়ন করা আমাদের দায়িত্ব। যেখানে প্রয়োজন মনে করব, সেখানেই আপনাদের সঙ্গে কাজ করব।’
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর আধুনিকায়নে এয়ারবাসের সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় ১০টি উড়োজাহাজ কেনা হবে। এর মধ্যে দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটের জন্য চারটি এ৩৫০-৯০০ এবং আঞ্চলিক রুটে ব্যবহারের জন্য ছয়টি এ৩২১নিও উড়োজাহাজ রয়েছে।
চুক্তিটি ইউরোপীয় অংশীদারদের খুশি করার জন্য করা হয়নি উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতের প্রয়োজন মেটাতেই এ চুক্তি করা হয়েছে। কোনো চুক্তি দেশের মানুষের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে সরকার তাতে সই করবে না।
তিনি বলেন, ব্যবসায়িকভাবে যৌক্তিক ও দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট হলে বাংলাদেশ এয়ারবাস, বোয়িং কিংবা অন্য যেকোনো অংশীদারের সঙ্গে কাজ করবে। তবে যেকোনো চুক্তি সইয়ের আগে সরকারের অনুমোদন এবং আইনি যাচাই-বাছাই করা হবে।
‘আমরা কাউকে খুশি করার জন্য চুক্তি করি না। দেশের প্রয়োজনেই চুক্তি করি,’ বলেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, বিমান শুধু যাত্রী পরিবহনের মাধ্যম নয়, এটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। উড়োজাহাজের মাধ্যমে মানুষের যোগাযোগ বাড়ে, নতুন বাজারে পণ্য রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়, বিনিয়োগ ও পর্যটক আসে এবং বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের সঙ্গে দেশের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হয়।
তিনি বলেন, আধুনিক ও জ্বালানিসাশ্রয়ী উড়োজাহাজে বিনিয়োগ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থার যোগাযোগ সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের অবস্থানও শক্তিশালী করবে।
বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, ইতালি, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের বাণিজ্য ও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দেশের উন্নয়নযাত্রায় এসব অংশীদার দীর্ঘদিন ধরে সহযোগিতা করে আসছে।
এয়ারবাসের উড়োজাহাজ তৈরিতে ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন ও যুক্তরাজ্যের উৎপাদন অবকাঠামোর অংশগ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বিশেষ করে এ৩৫০ উড়োজাহাজের ডানা ও ইঞ্জিন যুক্তরাজ্যে তৈরি হয় বলে জানান তিনি।
এয়ারবাসের সঙ্গে উড়োজাহাজ কেনার চুক্তিকে প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও বিনিয়োগে আরও সহযোগিতার সুযোগ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান হুমায়ুন কবির। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণদের পাশাপাশি অংশীদার দেশগুলোর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও উপকৃত হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক কূটনীতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। দেশের পররাষ্ট্রনীতি নমনীয়, বহুমাত্রিক এবং অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
‘আমরা কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল নই,’ বলেন তিনি।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও ইউরোপীয় অংশীদারদের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারে কাজ করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও বাণিজ্যিক সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।
‘আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি, সামনে আরও ব্যবসা আসছে,’ বলেন হুমায়ুন কবির।
