আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদিতে প্রবেশ করতে পারবেন আটকে পড়া কর্মীরা

লেখক: রাইসুল ইসলাম
প্রকাশ: ১৮ ঘন্টা আগে

সৌদি আরবে যুদ্ধজনিত কারণে ফ্লাইট বিপর্যয়ে নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে না পারা এবং এর মধ্যে আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীরা পুনরায় দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, ফ্লাইট বিপর্যয়ের কারণে নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে পৌঁছাতে না পারায় যেসব বাংলাদেশি কর্মীর আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তারা পরবর্তী সময়ে দেশটিতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। এ ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এন্ট্রি সম্পন্ন হবে এবং তাদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।

রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, সরকার ও এজেন্সিগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করলে জনশক্তি রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব। একই সঙ্গে কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি বলেন, যেখানে তিন লাখ টাকায় বিদেশে যাওয়া সম্ভব, সেখানে কর্মীদের কাছ থেকে সাত থেকে আট লাখ টাকা নেওয়া অনুচিত। ব্যবসা বৈধ উপায়ে পরিচালনা করতে হবে এবং কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় থেকে বিরত থাকতে হবে, যাতে অভিবাসন ব্যয় মেটাতে গিয়ে তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট না হয়।

মন্ত্রী আরও জানান, কর্মীদের বিদেশ গমনের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং ভিসার বৈধতা দ্রুত যাচাইয়ের জন্য জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে (বিএমইটি) আধুনিক প্রযুক্তি চালুর কাজ চলছে। এ ছাড়া অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য উন্মুক্ত ইমেইল সেবা চালু ও তা প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কর্মীদের গন্তব্য দেশের আইনকানুন যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সরকারের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকেও কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, সৌদি আরবে কারাবন্দি বাংলাদেশিদের আগামী রমজানে বিশেষ ক্ষমার আওতায় আনার বিষয়ে সৌদি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে যেকোনো দ্বিপক্ষীয় সমস্যা যৌথ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে। তিনিও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে অভিবাসন ব্যয় কমানোর আহ্বান জানান।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া বলেন, সৌদি আরবে নিজ দেশের নাগরিকদের পর সবচেয়ে বেশি বসবাস করেন বাংলাদেশের কর্মীরা। দুই দেশের বিদ্যমান সুসম্পর্ক ভবিষ্যতে শ্রম খাতে আরও জোরদার ও সমৃদ্ধ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদ, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান এবং বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

  • প্রবাস
  • সর্বশেষ
  • সৌদি আরব