থার্ড টার্মিনালের লাভের ভাগে জিতলো বাংলাদেশ!

লেখক: চেক ইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ ঘন্টা আগে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালকে দেশের এভিয়েশন খাতের সবচেয়ে বড় অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই মেগা প্রকল্পটি শুধু যাত্রীসেবা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে দেশের রাজস্ব আয় ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তবে টার্মিনালটির অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে এর পরিচালনা ও আয়ের ভাগাভাগির বিষয়টি। সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজস্ব অংশ ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৭ শতাংশে উন্নীত হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের মূল ভবনের আয়তন প্রায় ২ লাখ ৩০০ বর্গমিটার। পার্কিং সুবিধা ও অন্যান্য অবকাঠামোসহ পুরো প্রকল্পের আয়তন প্রায় ১০ লাখ বর্গমিটার। প্রকল্পটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হবে এবং এর অপারেশন ও ব্যবস্থাপনায় জাপানি অংশীদারদের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

প্রকল্প নির্মাণে জাপানের ঋণ সহায়তার পরিমাণ প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা। এই ঋণ বাংলাদেশকে সুদসহ পরিশোধ করতে হবে। ফলে টার্মিনালের পরিচালন আয় থেকে ঋণ পরিশোধ, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ব্যয়ের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পূর্ববর্তী চুক্তি অনুযায়ী, টার্মিনাল পরিচালনা থেকে অর্জিত আয়ের ৮৫ শতাংশ বিদেশি অংশীদার এবং মাত্র ১৫ শতাংশ বাংলাদেশ পেত। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছিল যে, দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামোগত প্রকল্পে বাংলাদেশের রাজস্ব অংশ তুলনামূলকভাবে কম নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে নতুন করে আলোচনার মাধ্যমে রাজস্ব ভাগাভাগির কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা হয়। সাম্প্রতিক সমঝোতার ফলে বাংলাদেশের অংশ ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এর ফলে আগের তুলনায় বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজস্ব অংশ বৃদ্ধির ফলে প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত আয় দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের উন্নয়ন, ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং ভবিষ্যৎ অবকাঠামোগত বিনিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর থার্ড টার্মিনাল আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি চালু হলে বিমানবন্দরটির যাত্রী ধারণক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি কমবে যাত্রীদের অপেক্ষার সময়, উন্নত হবে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে ঢাকা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, থার্ড টার্মিনাল বাংলাদেশের আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে। তবে এই বিশাল বিনিয়োগের প্রকৃত সুফল নিশ্চিত করতে হলে দক্ষ পরিচালনা, আন্তর্জাতিক মানের সেবা এবং কার্যকর রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।

রাজস্ব ভাগের কাঠামোয় পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি পেলেও, প্রকল্পটির দীর্ঘমেয়াদি সফলতা নির্ভর করবে এর কার্যকর ও স্বচ্ছ পরিচালনার ওপর। থার্ড টার্মিনাল কতটা দেশের অর্থনীতি ও এভিয়েশন খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।

  • থার্ড টার্মিনাল