হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল আলোচিত থার্ড টার্মিনাল এখনো চালু না হওয়ায় সরকারকে বড় অঙ্কের আর্থিক চাপ বহন করতে হচ্ছে। প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আধুনিক টার্মিনালটি চালু না হলেও ২০২৭ সাল থেকে প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হবে সরকারকে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে নির্মিত টার্মিনালটি মূলত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর কথা ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, প্রশাসনিক রদবদল এবং সর্বশেষ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও জাপানি কনসোর্টিয়ামের মধ্যে সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ায় প্রকল্পটি অনিশ্চয়তায় পড়ে। এখন নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত সমাধান খোঁজার চেষ্টা চলছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্রমবর্ধমান আর্থিক দায়। টার্মিনাল চালু না হওয়ায় আয় শুরু হয়নি, কিন্তু ঋণের দায় বাড়তেই থাকছে। ইতোমধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পাওনা বাবদ আরও দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি পরিশোধের নির্দেশনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
টার্মিনাল চালু না হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ অপারেটর নিয়োগ জটিলতা। টার্মিনাল পরিচালনা ও রাজস্ব বণ্টন কাঠামো নিয়ে আন্তর্জাতিক ফাইনান্স কর্পোরেশন (আইএফসি) এর মাধ্যমে বেবিচকের প্রস্তুত করা শর্তগুলো জাপানের সুমিতোমো নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়াম মেনে না নেওয়ায় আলোচনা ভেস্তে যায়। ফলে এখনো পরিচালন কাঠামো চূড়ান্ত হয়নি।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে থাকায় টার্মিনালের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। ব্যাগেজ হ্যান্ডেলিং সিস্টেম, যাত্রী প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তা স্ক্যানারসহ অনেক যন্ত্রপাতি এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে পরীক্ষামূলক বা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়নি। ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ হলে ভবিষ্যতে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে তা বিনামূল্যে মেরামত বা পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না।
এর পাশাপাশি জনবল সংকট ও প্রশিক্ষণ জটিলতাও প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) প্রস্তাবিত প্রশিক্ষণ প্যাকেজ এখনো বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না পাওয়ায় প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও শুরু করা যায়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে দেশের এভিয়েশন খাতে আর্থিক চাপ আরও বাড়বে। এখন নজর নতুন সরকার কীভাবে এই জটিলতা কাটিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর অবকাঠামো প্রকল্পকে কার্যকর করে তোলে।
